নানা অনিয়ম ও দূর্নীতিতে জর্জরিত কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুলই ইসলাম মেডিকেল হাসপাতাল। পরিস্কার-পরিচ্ছনতা, সেবার মান, রোগীদের খাবারের মান, আউটসোর্সিং নিয়োগ সমস্যা নিয়ে প্রায়ই সোস্যাল মিডিয়ায় ক্রোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় সাধারণ নাগরিকদের। করোনাকালীন সময়ে কাজ করা প্রায় দেড়শ জন আউটসোর্সিং কর্মীর ৬ মাসের বেতন এখনো আটকে রাখা হয়েছে।
তাছড়া এক বছরের মেয়াদে যেসব আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ দেয়া হয় তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সচ্ছতা নেই এমন অভিযোগ অহরহ। যারাই দায়িত্বে এসেছেন তারাই নিয়োগ বাণিজ্যের সাথে জড়িত রয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
সম্প্রতি আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ কাঠামোয় হাসপাতালে ড্রাইভার পদে ৪ জন নতুন জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার কথা রয়েছে। সে অনুযায়ী চলতি বছরের ১লা জানুয়ারী থেকে ড্রাইভার পদে চারজনের বিপরীতে তিন জনকে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে কাজে যোগদান দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আউটসোর্সিং নিয়োগ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গালফ সিকিউরিটি সার্ভিস (প্রা:) লিমিটেড।
নিয়োগ ও যোগদান সম্পূর্ণ করেও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অস্বীকার করে
তবে অভিযোগ উঠেছে বিধিমালা না মেনেই হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত লোকদের বড় অংকের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এস.এস.সি পরীক্ষার সনদপত্র থাকলেও তাদের ৫ বছরের ড্রাইভিং লাইসেন্সের কোনো অভিজ্ঞতা সনদ নেই। এমনকি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ভারী যান চলাচলের অভিজ্ঞতা থাকার কথা থাকলেও রয়েছে হালকা যান চলাচলের ড্রাইভিং লাইসেন্স। বর্তমানে হাসপাতালটিতে পরিচালক ও উপ পরিচালকের পদ শূন্য রয়েছে। এ অবস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়া কিভাবে সম্পূর্ণ হতে পারে এ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগে যেসব অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে তা কোন প্রার্থীই সম্পূর্ণ করেনি তা অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ কাঠামোয় (ড্রাইভার পদে) ইতিপূর্বে নূন্যতম অষ্টম শ্রেণি পাস নিয়োগ দিলেও সম্প্রতি এ নিয়োগে শিক্ষাগত যোগ্যতা নূন্যতম এস.এস.সি ও ড্রাইভার পদে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, এ্যাম্বুলেন্স, পিক আপ, প্রাইভেটকার ইত্যাদি চালনায় দক্ষতা থাকতে হবে এবং ভারী চালক হিসেবে নূন্যতম ০৫ (পাঁচ) বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং প্রার্থীকে শারীরিকভাবে সক্ষম হতে হবে। ক্যাটগরি-১ এ তাদের মাসিক বেতন ধরা হবে ১৭,৬৩০ টাকা এবং বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ থেকে ৬০ বছর। কিন্তু নিয়মের সত্যতা পেলেও নিয়োগের সত্যতা পাওয়া যায় নি।
নিয়োগপ্রাপ্ত (১) মো: রিপন মিয়া, পিতা: মো: শাহীন মিয়া, (২) প্রসেনজিৎ দাস, পিতা: দেবেন্দ্র চন্দ্র দাস ও (৩) মো: ইব্রাহিম মিয়া, পিতা: মো: কুরবান আলী। তাদের মধ্যে গত ১০.১২.২০২২ তারিখে প্রসেনজিৎ দাসের জন্য তার জীবন বৃন্তান্তে সুপারিশ করেন সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সাবেক পরিচালক ডা: মো: হাবিবুর রহমান। ঠিকাদারী নিয়োগ প্রতিষ্ঠান মো: রিপন মিয়াকে নিয়োগ পত্র প্রদান করে ২০.১২.২০২২ তারিখে। ০১.০১.২০২৩ তারিখে তার যোগদান পত্র গ্রহণ করেন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা: নাসিরুজ্জামান।
নিয়োগে যেসব অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে তা কোন প্রার্থীই সম্পূর্ণ করেনি তা অনুসন্ধ্যানে বেরিয়ে এসেছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স অনুযায়ী মো: রিপন মিয়ার জন্ম তারিখ ২০.১২.১৯৯৯ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুর তারিখ ৭ জানুয়ারী ২০২১, প্রসেনজিৎ দাসের জন্ম তারিখ ১১.০৯.১৯৯৯ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুর তারিখ ২৪.০৫.২০২১ এবং মো: ইব্রাহিম মিয়ার জন্ম তারিখ ০১.১২.১৯৯৭ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুর তারিখ ০৯.০১.২০২০। সকলের ড্রাইভিং লাইসেন্স অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত কারো ভারী গাড়ী চালক হিসেবে ০৫ (পাঁচ) বছরের অভিজ্ঞতা নেই।
যোগদানকৃত ৩ জনের একজনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমাদের নিয়োগ ও যোগদান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। আমরা জানুয়ারী মাসের ১ তারিখ থেকে কাজেও যোগদান করেছি।
এ বিষয়ে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: শহিদ কবীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, নিয়োগ পক্রিয়া এখনো প্রক্রিয়াধীন তা এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। তিনি আরও বলেন, তিনি খুবই নিষ্ঠার সাথে কাজ করেন এবং তিনি এসব চলচাতুরির মধ্যে নেই।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা: নাসিরুজ্জামান জানান, আমরা গালফের কাছ থেকে ড্রাইভার নিয়োগের জন্য একটা তালিকা পেয়েছি। যারা সিলেক্টেড হয়েছে তারা প্রয়োজনীয় পেপারসহ যোগদান পত্র জমা দিয়েছে। আমরা তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা দেখে বাকি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে নিয়োগপত্র দেয়া হবে।
স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা: দীন মোহাম্মদ এ বিষয়ে বলেন, এই পোষ্টে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য যোগ্যতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিধিমালা না মেনে নিয়োগ দেয়াটা অন্যায়, মোট কথা নিয়োগটা হলেও সেটা যেন স্বচ্ছ হয়।