কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় এবার মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দাম পেয়ে কুষকের মুখে হাসি। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি এ আলু যাচ্ছে ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট, গাজিপুর, টাংঙ্গাইল, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে , উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের হাওরের এবার মিষ্টি আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫০ একর। চাষ হয়েছে ৮০০ একর। স্থানীয় জাতের পাশাপাশি হাইব্রিড জাতের মিষ্টি আলুর চাষ করেছেন চাষিরা। তবে স্থানীয় জাতের আলুর ফলনই বেশি হয়েছে বলে জানান আলু চাষিরা।
চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা বিভিন্ন হাওরে অগ্রাহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহে থেকে শুরু হয় মিষ্টি আলুর চারা বপন। ফাল্গুন মাসের দ্ধিতীয় সপ্তাহে থেকে মিষ্টি আলু মাটির নিচে পরিপক্ক হয়। আর চৈত্র মাস থেকে আলু তোলায় ব্যস্ততা থাকবে চাষিরা ও পরিবারের লোকজন।
গত রবিবার (২০ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মিষ্টি আলুর রাজ্য হিসেবে পরিচিত সদর ইউনিয়নের বাইরচর, পাগলারচর ও পুর্বগ্রাম চরে গিয়ে দেখা গেছে, খেতজুড়ে চলছে মিষ্টি আলু তোলার উৎসব। রোদের তেজ উপেক্ষা করে পুরুষেরা কোদাল দিয়ে মাটি কুপিয়ে আলগা করছেন। আর মহিলা ও শিশুরা আলু কুরিয়ে এক জায়গায় স্তুুপ করে রাখছেন। মিষ্টি আলু নিতে আসা ব্যাপারিরা খেতে বসেই আলু মেপে বস্তায় ভরে রাস্তার পাশে নিয়ে রাখছেন। সন্ধ্যার সময় ট্রাকে করে এসব আলু দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাবে।
নিকলী সদর ইউনিয়নের পূর্ব গ্রামের কৃষক আশাবউদ্দিন বলেন, এ মৌাসুমে ছয় একর (১০০শতাংশে) জমিতে মিষ্টি আলু চাষ করেছি। প্রতি একরে ২০০ মণ করে ছয় একর জমিতে ১ হাজার ২০০ মণ মিষ্টি আলুর ফলন হয়েছে। বাজারে দামও পাওয়া যাচ্ছে ভালো। প্রতি মণ মিষ্টি আলু পাইকারি ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করছি। ছয় একর জমিতে চারা বপন ও আলু তোলা পর্যন্ত মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৩লাখ ২০ হাজার টাকা। বিক্রি হয়েছে ৭লাখ ২০ হাজার টাকা। লাভ হয়েছে ৪ লাখ টাকা।
একই গ্রামের কৃষক রমজান মিয়া, আবু কালাম, পাচঁরুখী গ্রামের ফাইজুল বলেন, আগে এসব জমিতে বাদাম ও মিষ্টি লাউ করতাম। এতে লাভ হাতো না, কয়েক বছর ধরে আমারা মিষ্টি আলু চাষ করে লাভবান হয়েছি। আগে যেখানে বাদাম ও মিষ্টি লাউ করে লোকসান হতো। এখন লাভের মুখ দেখে আমারা খুশি। আলু বিক্রি করতে আমাদের কোনো কষ্ট করতে হয়না। দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে জমি থেকে আলু তোলার পর জমিতেই বিক্রি করে দেয়। পরে পাইকাররা এ আলু বস্তায় ভরে রাস্তার পাশে জমা করে। সন্ধ্যার সময় ট্রাক ভরে আলু দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছে। যদি এলাকায় একটি হিমাগার থাকতো তবে মিষ্টি আলু গুলো হিমাগারে রেখে পরে বিক্রি করতে পারলে আমাদের লাভ আরো বেশি হতো।এখনতো পচনের ভয়ে কম দামেই বিক্রি করে দিচ্ছি।
ঢাকা থেকে আসা এক মিষ্টি আলুর পাইকার সোয়াগ মিয়া বলেন, নিকলীর মিষ্টি আলুর চাহিদা বেশি। কারন ওই আলুগুলো বালু মাটিতে হওয়ায় মিষ্টি হয় খুব বেশি। ওই মিষ্টি আলু গুলো ঢাকায় এক হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয়। বৈশাখ মাস পর্যন্ত এ উপজেলা থেকে আলো নেওয়া যায়। এরপর এলাকায় আর আলু থাকে না।
নিকলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, এ বছর মিষ্টি আলু উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জমির অবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করায় এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে এবং বর্তমান বাজারে দাম ভালো থাকায় কৃষকরা খুশি।