কিশোরগঞ্জের নিকলীতে হাঁসের খামারি নজরুল ইসলাম (৫০) হত্যা মামলার আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
পরে নয়াবাজার এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী অভিযোগ, নজরুল হত্যার ঘটনায় ৪ জন আসামির নামে থানায় এজাহার দাখিল করা হলেও পুলিশ দুই আসামিকে বাদ দিয়ে মামলা রেকর্ড করেন। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছেনা। মানববন্ধন কর্মসূচিতে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী অংশ নেন।
জানা গেছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে নিকলী বেড়িবাঁধ এলাকায় নজরুল ইসলামের খামারে যান, পাশ্ববর্তি কৈতবহাটি এলাকার সাদ্দাম হোসেন ও মোকারমসহ অজ্ঞাত আরও দুই ব্যক্তি। এ সময় টর্চলাইজ জেলে তাদের পরিচয় জানতে চান নজরুল ইসলাম। এ নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে নজরুল ইসলামকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন, ওই চার ব্যক্তি। তাকে প্রথমে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নজরুল ইসলাম। নজরুল ইসলাম নিকলী উপজেলা সদরের দরগাহাটি গ্রামের বাসিন্দা।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী খোদেজা বাদী হয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর নিকলী থানায় একটি মামলা মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদী খোদেজা অভিযোগে বলেন, `আমার স্বামী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় ৪ জনের নামে থানায় মামলার এজাহার দাখিল করি। কিন্তু পুলিশ রাতের বেলা আমাকে থানায় নিয়ে গিয়ে নতুন করে স্বাক্ষর নেয়। পরে জানতে পারি দুই আসামিকে বাদ দিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
নিহতের ছেলে তারজুল জানান, মামলার প্রধান আসামি সাদ্দাম হোসেনের ভাই মো: হৃদয় পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে চাকুরি করায় নিকলী থানার ওসি তাকে মামলা থেকে বাদ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে নিহত নজরুল ইসলামের ছেলে তারজুল বাদী হয়ে গত ৩ অক্টোবর সাদ্দাম হোসেন (৩৫), তার ভাই মো: হৃদয় (৩০), মোকারম (৩৮) ও দিলু (৩২)কে আসামি করে আদালতে আরও একটি মামলার এজাহার দাখিল করেছেন।
আমল গ্রহনকারী ৪ নং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক একই দিন নিকলী থানার ওসিকে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে কিনা সেটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিরয়ছেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে দুই আসামিকে বাদ দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিকলী থানার ওসি মো: সারোয়ার জাহান। বাদীর লিখিত এজাহারে দুই জনের নাম ছিলো দাবি করে ওসি বলেন, মামলা রেকর্ড করে ফেলার পর বাদী ৪ জনকে আসামি করার কথা বলেন। কিন্তু সেটি আইনসিদ্ধ নয়।
.
আদালতের নির্দেশনা হাতে পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানান তিনি।