আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গত কয়েক বছরের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা। অবশেষে ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধের জেরে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ স্থগিত করেছে সৌদি আরব।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের আলোচনা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। বিষয়টি তারা মার্কিন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছে। বর্তমানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনও রিয়াদ সফর করছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তেলআবিবের সঙ্গে শান্তিচুক্তির বিনিময়ে সৌদির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বড় আকারের নিশ্চয়তা চান। এমনকি এ কারণে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবিও ছাড় দিতে নারাজ তিনি।
গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা এবং যুদ্ধের সূত্রপাতের আগ পর্যন্ত সৌদি ও ইসরায়েল উভয় দেশের নেতারাই বলে আসছিলেন যে তারা চুক্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন আকার দিতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনকে এড়িয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া মানে এই অঞ্চলের আরব দেশগুলোকে ক্ষুদ্ধ করার ঝুঁকি নেওয়া। আরব গণমাধ্যমগুলো প্রতিনিয়ত ইসরায়েলি হামলার এবং ফিলিস্তিনের নিহতের ছবি সম্প্রচার করছে। আরব দেশগুলোতে ক্ষোভ দেখা গেছে।
এদিকে হামাসের হামলার পর প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে সৌদি আরব। ইসরায়েলের নাম উল্লেখ না করে এ সহিংসতার জন্য দেশটিকে দায়ী করেছে সৌদি প্রশাসন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদ।
যুদ্ধের ফলে ইরানের সাথে সম্পর্ক আরো জোরদারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে সৌদিকে। হামাসের হামলার পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রথম কল পান ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির কাছ থেকে।