ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে সৃষ্ট নিম্নচাপ, ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে উঠতি ফসলসহ আধা পাকা ধান,পাকা ধান ও ধান কাটার পর জমিতে পুঁতিয়ে রাখা আমন ধানের বেশি ক্ষতি হয়েছে। ফলে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি পোষাতে বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। তাই ভুক্তভোগী কৃষকেরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে জরুরি ভিত্তিতে ভর্তুকির দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর ) থেকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত উপজেলার সর্বত্রই অবিরাম বৃষ্টিপাত ও সেইসাথে ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়। এতে পুরো উপজেলা জুড়েই কম বেশি উঠতি ফসলসহ আমন ধানের ক্ষতি হয়। তাছাড়া হঠাৎ ওই ঘূর্ণিঝড় মিথিলির প্রভাবে আমন ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের উঠতি ফসল ও শাকসবজিরও বেশ ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষকেরা জানান।
সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে উপজেলার গোবিন্দপুরের কৃষক মোঃ খায়রুল ইসলাম, মোঃ খোকন মিয়া, উপজেলার পুমদী এলাকার কৃষক মোঃ জামাল উদ্দিনসহ অনেকেই জানান, এলাকার অনেকেই পাকা আমন ধান কেটে জমিতে বিছিয়ে রেখেছিলেন শোকানোর জন্য। এ গুলির চরম ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া যেসব জমির ধান পেকে ছিলো, বৃষ্টি আর বাতাসে এসব ধানগাছ জমিতে বিছিয়ে পড়ে গিয়ে ফলন হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে । ফলে আমন ধান ঘরে তোলা নিয়ে কৃষকেরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। এ সময় উপজেলার জামাইল গ্রামের কৃষক নবী হোসেন, সাইফুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, এবারের ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে অপেক্ষাকৃত নীচু জমিতে পানি জমে থাকায় কেটে রাখা আমন ধানের ক্ষতি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। কেননা জমিতে বিছিয়ে পড়ে থাকা এসব ধান কাটতে যেমন সমস্যা হবে, তেমনি খরচও বেড়ে যাবে দ্বিগুন। অন্যদিকে যেসব জমিতে আলু রোপন করা হয়েছে এবং মরিচের বীজ বপন করা হয়েছে, সেগুলিও পচে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে অনেক বেশি। তাই এ সময়ে প্রান্তিক কৃষকেরা আমন ধান ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতি পোষাতে চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ একেএম শাহজাহান কবির জানান, চলতি মওসুমে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৮ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে অনেক বেশি। আবাদকৃত ধানের মধ্যে রয়েছে ব্রিধান-৪৯, ব্রিধান-৭১, ব্রিধান-৭৫, বিনা-৭, বিনা-১৭ প্রভৃতি ও বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের ধান। এ বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের পাশাপাশি স্থানীয় জাতের আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। সে তুলনায় ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে নিম্নচাপের দরুন আমন ধানের ক্ষতির পরিমাণ খুব বেশি হয়নি। তবুও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।
এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কিশোরগঞ্জের উপপরিচালক মো. আব্দুস সাত্তার জানান, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে আমন ধানের চেয়ে শাকসবজির ক্ষতি কিছুটা বেশি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বৃষ্টির পানি আমন ধানের জমিতে জমে না থাকলে আমনের তেমন ক্ষতি হবে না। তবে যেসব জমির ধান কেটে জমিতে বিছিয়ে রাখা হয়েছে সেগুলি কাটা ও মাড়াই নিয়ে নিয়ে কৃষকদের কিছুটা সমস্যা ও খরচ বাড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি ।