কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় এ বছর কাঁচা মরিচ চাষে এসেছে আশাতীত সাফল্য। মাঠজুড়ে সবুজ গাছের ফাঁকে লাল-সবুজ মরিচের ঝাড় যেন কৃষকের স্বপ্নের রঙ ছড়িয়ে দিয়েছে। ফলন যেমন বাম্পার, তেমনি বাজারদরও গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ,ফলে কৃষকের মুখে এখন স্বস্তির হাসি।তবে গত বছরে মরিচ চাষে ক্ষতির অভিজ্ঞতা থেকে এবার চাষীরা ভয়ে ছিল।কিন্তু সকল ভয়কে জয় করতে বিধাতা যেন মরিচ চাষে কৃষকের আশীর্বাদ নিয়ে এসেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর নিকলীতে ২৭৫ একর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮৭ একরে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়া এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে উন্নত পরিচর্যার ফলেই এ সাফল্য এসেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
গত বছর কাঁচা মরিচের প্রতি মণ দাম ছিল ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা। কিন্তু এ বছর সেই মরিচই বিক্রি হচ্ছে ৩৪০০ থেকে ৩৫০০ টাকায়। অর্থাৎ দামে প্রায় দ্বিগুণ উল্লম্ফন ঘটেছে। এতে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও লাভের অঙ্ক সন্তোষজনক হওয়ায় কৃষকেরা বেশ খুশি।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, চলতি মৌসুমে ফলন ভালো হওয়ায় তারা ঋণ পরিশোধ করে বাড়তি আয় হাতে পাচ্ছেন। কেউ ঘরের টিন বদলানোর পরিকল্পনা করছেন, কেউবা পরিবরের সবাইর জন্য নতুন পোশাক কেনার জন্য ব্যস্ত,কেউ সন্তানের পড়াশোনার খরচ নিয়ে এখন আর চিন্তিত নন। মরিচের এই লাল আভা যেন তাদের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ বলেন, ভবিষ্যতেও যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এবং বাজারদর স্থিতিশীল থাকে, তবে নিকলীতে মরিচ চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। কৃষকদের নিয়মিত সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।