বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
কিশোরগঞ্জে ৩৪ দিন ধরে নিখোঁজ তরুণী চীনের তৈরি জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান কেনার পথে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ মহানবী (সা.)-এর আদর্শ তরুণদের জন্য হতে পারে প্রেরণার উৎস মোটরসাইকেলের সাইলেন্সের বিকট শব্দ, কিশোরের ২০ হাজার টাকা জরিমানা সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত আছে: তথ্য উপদেষ্টা মজুদ থাকলেও বাইরে থেকে স্যালাইন কেনার নির্দেশ, সিনিয়র নার্সকে শোকজ যে দ্বীপে হাজারো তাইওয়ানিজ সাইকেল নিয়ে ঘোরেন রংপুরে চার হত্যাকাণ্ড: আসামি ও পুলিশ কর্মকর্তার একই শার্ট নিয়ে চাঞ্চল্য ১৮০ দিনে বিএনপি সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে: নাহিদ ইসলাম

নিকলীর হাওরের ধান কাটা নিয়ে তিন সংকটে কৃষক

দিলীপ কুমার সাহা, নিকলী, কিশোরগঞ্জ
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৬৪ বার পড়া হয়েছে
নিকলীর হাওরের ধান কাটা নিয়ে তিন সংকটে কৃষক

২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে উজানের ঢলে অকাল বন্যায় কিশোরগঞ্জের নিকলীর হাওরে এক মহাবিপর্যয় ঘটেছিল। তখন প্রায় ৩২ হাজার একর জমির বোরো ধান তলিয়ে যায়। এর ৯ বছর পর চলতি এপ্রিল মাসে আবারও তেমনই এক সংকটের মুখে নিকলীর হাওরবাসী। একদিকে জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে শ্রমিকের অভাব ও জ্বালানী তেল – এই তিন সংকটে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।

নিকলীতে ছোট-বড় অর্ধশতাধিক হাওরে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। দিগন্তজোড়া ফসলের বাম্পার ফলনে কৃষকের মনে আনন্দ থাকার কথা থাকলেও সেখানে জেঁকে বসেছে শোকাবহ পরিবেশ। বৈশাখের এই সময়ে হাওরে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কথা। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস তাঁদের চিন্তায় ফেলেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, নিকলীতে চলতি বছর ৩৬ হাজার ৩২৫ একর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) পর্যন্ত হাওর ও নন-হাওর নিয়ে উপজেলায় ধান কর্তন হয়েছে ৫০%—যা মোট উৎপাদনের অর্ধেক।

এখনও হাওরের বড় অংশের ধান কাটাই বাকি আছে। এর মধ্যে গত চারদিনের টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন হাওরে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। ফলে জলমগ্ন হাওরে শ্রমিক দিয়ে দ্রুত ধান মাড়াই নিয়ে সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। রোববার (২৬ এপ্রিল) ভোর থেকে শুরু হওয়া মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত বুধবার (২৯ এপ্রিল) পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় ধান কাটা ও মাড়াই কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে হাওরে পানি থাকার কারণে হারভেস্টার মেশিন দিয়েও ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। যেসব জমিতে হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা যাচ্ছে, সেখানেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ। এর কারণ হলো ডিজেলের দাম বৃদ্ধি ও সংকট।

নিকলী সদর ইউনিয়নের বড় হাওরের কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, “আমার জমি পানিতে তলিয়ে আছে। এখন যদি আরও বৃষ্টি হয়, তাহলে আর ধান কাটাই সম্ভব হবে না। এর মধ্যে হারভেস্টার দিয়েও ধান কাটা যাচ্ছে না, পানির কারণে।”

সিংপুর হাওর পাড়ের কৃষক রহমত আলী বলেন, “যে ফসল চাষ করেছিলাম, সব এখন পানির নিচে। তারপরও আমার দুই ছেলেকে নিয়ে পানির মধ্যেই ধান কাটছি। আবার বৃষ্টি হলে যা আছে তাও পাবো না। একদিকে শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে নদ-নদীর পানি বাড়ছে- এ নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষক।”

দামপাড়া ইউনিয়নের বড়কান্দা গ্রামের কৃষক সোহেল মিয়া বলেন, “আমরা ধান কাটতে পারলেও বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে পারছি না। আরও অনেকের ধান জমিতেই আছে, শ্রমিকের অভাবে কাটা সম্ভব হচ্ছে না। একজন শ্রমিক ১৫শ’ টাকা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না।”

এ অবস্থায় হাওরের কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। দ্রুত ধান ঘরে তুলতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

উপজেলার পইতাইন্না, বোয়ালিয়া, চইল্লাতি, হাহাতি, মানায়ের বিল, নয়া বান, নওয়া বিল, গুলডর বিল ও লাউটলা, কোড়ের পাড়, ছাতিরচর, গুরুই হাওরে প্রায় এক হাজার একর বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

গোড়াদীঘা হাওরের কৃষক আল আমিন মিয়া বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস ও পানি উন্নয়ন বোর্ড ধান দ্রুত কাটার পরামর্শ দিলেও টানা বৃষ্টির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অতিবৃষ্টি ও উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কৃষকদের সতর্ক করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ বলেন, ইতিমধ্যে হাওরে ৫০% ধান কর্তন করা হয়েছে। শ্রমিক সংকট কাটিয়ে তোলার জন্য এবং দ্রুত ধান কাটার জন্য জেলার বাইরে থেকে শ্রমিক পর্যায়ক্রমে আসছে। বেশিরভাগ জমিতে পানি থাকায় হারভেস্টার কাজে আসছে না। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

নিকলী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার আক্তার ফারুক জানান, বিগত ২৪ ঘণ্টা বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত নিকলীতে ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই দ্রুত কাটার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিকলীর অতিরিক্ত ডিজেল বরাদ্দ আছে। ডিজেলের কোনো সংকট হবে না। শ্রমিক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com