মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
দেশে চালু ১৯ কোটি ১০ লাখ সিম, জানালেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু নিউ মেক্সিকোর নাম বদলে ‘নিউ আমেরিকা’ চান ট্রাম্প, নাকচ গভর্নরের অটোরিকশা চার্জে বছরে রাজস্ব ক্ষতি ৪ হাজার কোটি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাকুন্দিয়ার মিলনের মৃত্যু তাড়াইলের ১২ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় তাড়াইল হাজী গোলাম হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত  টানা তিন হার বাংলাদেশের, এবার বড় লজ্জা দিল ভারত হানাহানি এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ‘মৃত্যুর আগে ছেলেকে একবার দেখে যেতে চাই’

এপ্রিলে ৫২৭ সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১০ জন নিহত, ১২ শর বেশি আহত

ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
  • ১২১ বার পড়া হয়েছে
নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে গ্যাস লিকেজ বিস্ফোরণ, দগ্ধ ১২

দেশে এপ্রিল মাসে ৫২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১০ জনের প্রাণহানি এবং ১২ শর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে তথ্য এসেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনা করে যাত্রী কল্যাণ সমিতি এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। বাস্তবে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

বুধবার সমিতির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে পরিবহন খাতের পরিচালনা পদ্ধতি ‘আপাদমস্তক’ সংস্কারের দাবি জানান সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিলে সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে এপ্রিলে মোট ৫৮৬টি দুর্ঘটনায় মোট ৫৬৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৭৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু সড়কে প্রাণ গেছে ৫১০ জনের, আহত হয়েছেন ১২৬৮ জন।

বিবৃতিতে মোজাম্মেল হক বলেন, “আমলাতন্ত্রের পরিবর্তে দেশি-বিদেশি পরিবহন বিশেষজ্ঞদের নিয়ন্ত্রণে পরিবহন খাত পরিচালনা করা গেলে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যাতায়াতের দুর্ভোগ নিরসন এবং প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর মিছিল থামানো সক্ষম হবে।”

সরকারকে পুরনো পরিবহন পরিচালনা পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে ১৩৫টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত এবং ২৬৩ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘেটনা ময়মনসিংহ বিভাগে। সেখানে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

এ মাসে ১৩৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৪২ জন নিহত এবং ১২৪ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ২৭.৮৪ শতাংশ।

সড়কে নিহতদের মধ্যে ৯৯ জন বিভিন্ন বাহনের চালক, ৮২ জন পথচারী, ৫৬ জন শিক্ষার্থী, ৫২ জন নারী, ৪৭ জন শিশু এবং ২৫ জন পরিবহন শ্রমিক রয়েছেন। এছাড়া চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনা কবলিত ৮০৫টি যানবাহনের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৬.৪৫ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ২১.৮৬ শতাংশ মোটরসাইকেল এবং ১৫.২৭ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক। এছাড়া ১৪.২৮ শতাংশ বাস এবং ৬.৯৫ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত মাসে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৪১.১৭ শতাংশই ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ। এছাড়া ২৮.০৮ শতাংশ পথচারীকে গাড়িচাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা এবং ২৩.৭১ শতাংশ যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।

মোট দুর্ঘটনার ৩৮.৫১ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩১.৪৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২২.৯৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে।

সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫.৬৯ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৭৫ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৫৬ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। এর মধ্যে রয়েছে- মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল, রোড সাইন ও ডিভাইডার না থাকা, মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক এবং বেপরোয়া গতি। এছাড়া সড়কে চাঁদাবাজি ও চালকের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টাকেও দায়ী করা হয়েছে।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিভিন্ন সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

  • সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং ভাড়া আদায়ে স্মার্ট পদ্ধতি চালু।
  • মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার আমদানি ও নিবন্ধন বন্ধ করা।
  • দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে গাড়ির ফিটনেস প্রদান।
  • পরিবহন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে মালিক সমিতির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা।
  • চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা এবং সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা।
  • বিআরটিএ-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সড়ক পরিবহন।
  • মন্ত্রণালয়ে ‘সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট’ চালু করা।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com