কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় এক কিশোরীকে নির্যাতন, জোরপূর্বক বিয়ে, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সুবিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে হোসেনপুর মডেল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কিশোরী, তার অভিভাবক ও স্বজনরা লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষের ভয়ভীতি, নির্যাতন ও হুমকির কারণে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের গড়মাছুয়া এলাকার বাসিন্দা মোছা. আছমা আক্তার অভিযোগ করেন, একই এলাকার শুপল মিয়া ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে তার নাবালিকা ভাতিজিকে দীর্ঘদিন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে তাকে অপহরণ করে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। বিয়ের পর থেকে কিশোরীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় এবং তার পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, নির্যাতনের কারণে কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। অভিযোগে বলা হয়, প্রতিপক্ষ বারবার হামলা, মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। এছাড়া বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালামাল ভাঙচুর ও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, এ ঘটনায় হোসেনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তারা প্রত্যাশিত বিচার ও নিরাপত্তা পাননি বলে দাবি করেন। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মোছা. আছমা আক্তার, মো. নাজমুল মড়লসহ স্বজনরা বলেন, “আমরা কোনো প্রতিহিংসা চাই না। আমরা শুধু সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার বিচার চাই, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবার এ ধরনের ঘটনার শিকার না হয়।”
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিগুলো হলো—
এ বিষয়ে হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলও অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।