নেত্রকোনায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদি হয়ে নেত্রকোণা মডেল থানায় রিপন মিয়াকে একমাত্র আসামি করে একটি মামলা করেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) নেত্রকোণা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের এ তথ্য জানান।
অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের জানান, মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদি হয়ে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় একমাত্র আসামি রিপন মিয়া। ঘটনার পর আয়োজিত সালিশ দরবারে কারা উপস্থিত ছিলেন, তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দরবারে কী আলোচনা হয়েছিল, তা যাচাই-বাছাই করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গ্রামবাসীর ভাষ্য, সম্প্রতি নন্দুরা গ্রামের ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরীর সঙ্গে রিপন মিয়ার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন স্থানীয় লোকজন।
পরে রিপন মিয়াকে আটকে রেখে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং অবিলম্বে নন্দুরা গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
গ্রাম্য সালিশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে রিপন মিয়াকে হাঁটু গেঁড়ে মাফ চাইতে দেখা যাচ্ছে।
পরকীয়ার অভিযোগ ধরার পর ওই সালিশি ভিডিওতে দেখা যায়, রিপন মিয়া এক বৃদ্ধর পায়ে ধরে বলছেন, আমাকে আপনাদের মাঝে থাকতে হবে। মানুষই ভুল করে। আমিও ভুল করে ফেলেছি। আমাকে মাফ করে দেন।
সালিশে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাতব্বর দাবি করেন, কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় এবং রিপন তা স্বীকার করায় সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে কিশোরীর ভবিষ্যৎ ও বিয়ের খরচ বাবদ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা বসতভিটা বাজেয়াপ্ত এবং সাত দিনের মধ্যে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রিপন মিয়ার স্ত্রী। তার দাবি, রিপনকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। একটি গাছের নিচে ওই কিশোরীর সঙ্গে সামান্য সময় কথা বলাকে কেন্দ্র করে অন্যায়ভাবে তার স্বামীকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা এবং ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে সত্য প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
নেত্রকোণা মডেল থানা-পুলিশ জানিয়েছে, দায়ের করা ধর্ষণ মামলার তদন্তের পাশাপাশি অবৈধ সালিশ বৈঠকের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।