শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
তুচ্ছ বিষয়ে শিল্পীদের আদালতে নেওয়া লজ্জাজনক: নুসরাত ফারিয়া তুচ্ছ বিষয়ে শিল্পীদের আদালতে নেওয়া লজ্জাজনক: নুসরাত ফারিয়া দেশে নতুন ফোন ‘হট ৭০ প্রো ৫জি’ আনলো ইনফিনিক্স আরও কমেছে গ্যাস সরবরাহ, লোডশেডিং ঢাকায়ও কলকাতায় হাসপাতালের শৌচাগার থেকে নার্সের মরদেহ উদ্ধার সরকারের অব্যবস্থাপনা ও অদূরদর্শিতার কারণে গ্যাস–বিদ্যুতের সংকট চরমে: জামায়াত ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ, শুরুতেই আঁটসাঁট বোলিং চট্টগ্রামে ব্যাংকের ভল্টের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা গায়েব, গ্রেপ্তার ২ তাড়াইলে জিপিএ-৫ পাওয়া ৪০ শিক্ষার্থীদের উপজেলা প্রশাসনের সংবর্ধনা ও ক্রেস্ট বিতরণ  কটিয়াদীতে পুকুরে ভাসছিল এক ব্যক্তির মরদেহ, উদ্ধার করল পুলিশ

দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল

ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে
দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল

তৃণমূল থেকে নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উঠে এসেছেন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দমন-পীড়নের মধ্যে সংগ্রামে অবিচল এই নেতা ছিলেন দলের ময়দানের কান্ডারি। গণঅভ্যুত্থানে বদলে যাওয়া বাংলাদেশে এবার তিনি ‘মহামান্য’ হয়ে যাচ্ছেন বঙ্গভবনে।

ছাত্রজীবনে বামপন্থায় আস্থা রাখা এই নেতা টানা দেড় দশক ধরে বিএনপির মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংগ্রাম আর তিনটি গণঅভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতায় ‍ঋদ্ধ মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিয়ে বিএনপি যেন তার ত্যাগের স্বীকৃতিই দিল।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষকতা পেশা থেকে রাজনীতিতে আসা এই নেতার রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা।

একজন ‘সজ্জন রাজনীতিবিদ’ হিসেবে সবমহলে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মনোনয়ন দিয়ে বিএনপি দলের ভেতরে উদাহরণ তৈরি করল। অভাবনীয় কিছু না ঘটলে সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলই জয়লাভ করতে যাচ্ছেন। তিনি হবেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।

আওয়ামী লীগের আমলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিন গেল ২৪ জুলাই পদত্যাগ করে বঙ্গভবন ছাড়েন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে সপ্তাহখানেক পর, ২০ অগাস্ট।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে নামেন চার দশক আগে। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের অঙ্গীকারে বেছে নেন এক সাধারণ জীবন। প্রাথমিকের কৃতি শিক্ষার্থী ঠাকুরগাঁওয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে।

তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সহপাঠী বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অর্থনীতি বিভাগের কৃতি ছাত্র ছিলেন। ঢাকা কলেজে সবাই ভর্তি হতে পারে না, যদি ব্রিলিয়েন্ট রেজাল্ট না হয়। ফখরুল ছিলেন সেই পর্যায়ের ছাত্র। অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র বুঝতেই পারেন, পড়ালেখার চাপ কি পরিমাণ থাকে। এরপরও তিনি ছাত্র রাজনীতি করেছেন…সেই রাজনীতির পথ ধরে জাতীয় রাজনীতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন। হি ইজ আ ব্রিলিয়েন্ট পারসন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার পাশাপাশি বাম ধারার রাজনীতিতে যুক্ত হন মির্জা ফখরুল। ১৯৬০ এর দশকে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন।

মির্জা ফখরুল সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসএম হল ইউনিটের মহাসচিব নির্বাচিত হন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে উঠে আসেন এবং ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন। রাজনৈতিক কারণে সে সময় তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল।

অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর শিক্ষাকতায় যোগ দিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন ১৯৭২ সালে। এরপর বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক পদে এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনেও কাজ করেন। তিনি ১৯৭৯ সালের শেষের দিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব পদে যোগ দেন।

এরপর ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে নেমে পড়েন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন।

মির্জা ফখরুলের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায়। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন এবং মা মির্জা ফাতেমা আমিন। বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন একজন আইনজীবী। তিনি দুইবার পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। ছিলেন এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য।

বাবার মতো রাজনীতির পথ ধরলেও তিনি জাতীয় রাজনীতিতে হাতেখড়ি নেন আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপে। সেখান থেকে শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি ছেড়ে সার্বক্ষণিক রাজনীতিতে যোগ দেন।

মির্জা ফখরুল ১৯৯০ সালে যোগদান করেন বিএনপিতে। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন। তারপর ধাপে ধাপে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদে উঠে আসেন।

২০১১ সাল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল। এরপর ২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দলটির মহাসচিব নির্বাচিত হন। সেই থেকে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন কৃষক ফ্রন্ট থেকে আসা এই নেতা।

বিএনপির নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ে আসার আগে মির্জা ফখরুল দলটির কৃষক সংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন। রাজনীতির এই দীর্ঘ যাত্রাপথে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মোকাবিলা করেছেন এক-এগারোর পট পরিবর্তন পরবর্তী প্রতিকূলতা।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের সময়টাতে দমন-পীড়ন, নির্যাতনে বার বার বিপর্যয়ের মুখে পড়া বিএনপিকেও অসীম ধৈর্যে সংগ্রামে অটল রেখেছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০১৮ সাল থেকে প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর অসুস্থতার কারণে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না।

দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেনা–সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালে লন্ডন চলে যান, সেখান থেকেই দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষে মাঠ সামলেছেন মির্জা ফখরুল। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব। বহু মামলা লড়ার পাশাপাশি তাকে তিন দফা কারাগারেও যেতে হয়েছে।

দলের শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির সংকটে হাল ধরে থাকা এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশের ভেতরে কার্যত দলটির মূল নেতৃত্বে ছিলেন মির্জা ফখরুল।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া তাবাসসুম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরে মহাসচিব হিসেবে দলের ভেতরে-বাইরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের যে অবস্থান তৈরি হয়েছে, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে তিনি যে ভাষায় বক্তব্যে দেন, তা সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এজন্য দল-মত নির্বিশেষে সকলে উনাকে সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে সন্মান করেন, কোনো বির্তক ছাড়াই।

বিএনপিতে যোগ দেওয়ার প্রায় এক দশক পর ২০০১ সালে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত সরকারে কৃষি এবং বেসরকারি বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ এবং বগুড়া-৬ আসনে প্রার্থী হন। বগুড়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও সারাদেশে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে সংসদে যাননি তিনি, যা সংসদীয় ইতিহাসে বিরল ঘটনা।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও থেকে নির্বাচিত হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন সরকারের স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনটিই তার।

বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির দুর্দিনে যেভাবে দলকে আগলে রেখেছেন, দলের পতাকাকে উড্ডীন রেখেছেন, সেজন্য তিনি রাষ্ট্রপতির আসনে বসার সন্মান পেতেই পারেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম, যিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন, বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊধর্বতন কর্মকর্তা হিসেবে অবসরে গেছেন। দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ মির্জা ও মির্জা সাফারুহকে নিয়ে তাদের সংসার।

বড়মেয়ে শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন এবং এ প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করছেন। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি। তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যানও ছিলেন।

তাদের চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। তিনি জিয়াউর রহমানের সরকারে ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন প্রথম সরকারে তিনি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন।

মির্জা হাফিজ ১৯৭৯ সালে ঢাকার একটি নির্বাচনি এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মির্জা আলমগীরের আরেক চাচা উইং কমান্ডার এস আর মির্জা ১৯৭১ সালের এপ্রিলে গঠিত মুজিবনগর সরকারে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ সুবিধা তদারকির জন্য নবগঠিত যুব শিবির অধিদপ্তরের প্রধান হিসেবে তাকে মনোনীত করা হয়েছিল।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com