শপথ নেওয়ার পর প্রথমবার কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শেষ মুহূর্তে চলছে জোর প্রস্তুতি। এ সফরকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতা কর্মী এবং সমর্থকদের মাঝে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
রোববার দুপুর আড়াইটায় প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে অবস্থিত ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ছাত্রদল আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যানবাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ করবেন। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
এরপর সাড়ে ১২টায় কটিয়াদী উপজেলায় কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে দুপুর ১টার দিকে কটিয়াদীর আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে আয়োজিত জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
এরপর সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম শেষে বিকেল ৪টায় জেলা শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন অনুদান দেবেন। পরে মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিন খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানি প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে ও বক্তব্য শুনতে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ সাধারণ মানুষ।
প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দলীয় সংসদ সদস্যরা।
কিশোরগঞ্জ-১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে কিশোরগঞ্জের সার্বিক উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও মৎস্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে।
তারা বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষের মতো বড় আয়োজন সাধারণত রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে হয়ে থাকে। তবে এবারই প্রথম রাজধানীর বাইরে এ আয়োজন হচ্ছে। বৃহত্তর ময়মনসিংহে দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ হয়ে থাকে। এ অঞ্চলের সম্ভাবনা, উদ্যোক্তা ও খামারিদের সাফল্য জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতেই প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহে এবারের মূল আয়োজন কটিয়াদীতে করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। তারা আশা করছেন, এ সফরের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-প্রত্যাশা পূরণের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেওয়ার জন্য।
দিনব্যাপী কর্মসূচী শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশে কিশোরগঞ্জ ত্যাগ করবেন।