হৃদয় আজাদ:
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে র্যাবের দিনব্যাপি ভেজাল বিরোধী অভিযানে সন্ধান মিললো চারটি ভেজাল সেমাই, চানাচুর ও মুড়ি ফ্যাক্টরীর সন্ধান। পরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এই চার ভেজাল ফ্যাক্টরীর মালিকদের সর্বমোট সাড়ে আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানাকৃত ফ্যাক্টরী গুলো হলো পৌর শহরের পঞ্চবটি এলকার মুন্না সেমাই ও চানাচুর ফ্যাক্টরী, ঘোড়াকান্দা এলাকার রাজা সেমাই ফ্যাক্টরী, জুনাঈদ সেমাই ফ্যাক্টরী ও অখিল চন্দ্র দাসের মুড়ি তৈরির ফ্যাক্টরী।

মঙ্গলবার দুপুরে র্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের সিনিয়র পরিচালক চন্দন দেবনাথের নেতৃতে পৌর শহরের পঞ্চবটি এলাকার মুন্না সেমাই ফ্যাক্টরীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই ও চানাচুর উৎপাদন এবং সঠিক কাগজপত্র না থাকার অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৪লাখ টাকা অর্থ দন্ড প্রদান করা হয়। এর আগে একই অপরাধে ভৈরব বাজারস্থ ঘোড়াকান্দা এলাকার রাজা সেমাই ফ্যাক্টরীর মালিক কারুজ্জামান রাজা মিয়াকে নিরাপদ খাদ্য আইনের ২৬ধারায় ৩লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমান আদালত।
এছাড়াও দিন ব্যাপি এই ভেজাল বিরোধী অভিযানের শুরুতে ভৈরব বাজারের অখিল চন্দ্র দাসের মুড়ি ফ্যাক্টরীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ভুক্তা অধিকার আইনে ৫০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে বিকেল পাচঁটার দিকে পৌর শহরের কমলপুর এলাকার জুনাঈদ সেমাই ফ্যাক্টরীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসময় নোংরা পরিবেশে সেমাই তৈরির অপরাধে ভুক্তা অধিকার আইনে ১লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযানে জব্দকৃত প্রায় ৪’শ লিটার ভেজাল তেল তাৎক্ষণিক ধ্বংস করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালতের নেতৃত্ব দেন নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট ও ভৈরব উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ আনিসুজ্জামান। এছাড়াও অভিযানে পৌর নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক নাছিমা বেগমসহ অন্যান্য র্যাব সদস্যরা সহায়তা করেন।
ভুক্তার নিরাপদ খাদ্য অধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষে ভেজাল বিরোধী এসব অভিয়ান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালতে নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আনিসুজ্জামান।