দিলীপ কুমার সাহা:
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ১৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এতে চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে, মা ও শিশুদের সমস্যা বেশি হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিক সূত্রে জানা গেছে , উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে চিকিৎসাসেবা দিতে সরকার ২০১১ সালে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করে। সকাল নয়টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়ে থাকে। প্রতিদিন গড়ে ৬০-৭০ জন রোগী এসব ক্লিনিকে এসে সেবা নেন। কিন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ক্লিনিকগুলোতে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা (সিএইচসিপি) ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা দিতে পারছেন না।
নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার গতকাল সোমবার দুপুরে বলেন , দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য ক্লিনিকগুলোর একটি তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
গতকাল সরেজমিন কারপাশা ইউনিয়নের নানশ্্রী কমিউনিটি ক্লিনিকে গেলে , ক্লিনিকের সিএইচপিসি শিমুল খান মনির জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় বৃষ্টির সময় ক্লিনিকের কক্ষ অন্ধকার হয়ে যায়। এতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে বিঘœ ঘটে। এ ছাড়া এখন গরমের সময সেবা নিতে আসা রোগীদেরও কষ্ট হয়। নানশ্্রী গ্রামের শাহাবুদ্দিন মিয়া, শান্তা বেগম,সরলাবানু ও হাবিবুর রহমান বলেন, ওই ক্লিনিকের মাত্র ৫০ ফুট দুরেই পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিঁ। অথচ ওই ক্লিনিকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। তিনি আরো বলেন, ওই ক্লিনিকে ডায়রিয়া, আমাশয়, ঠান্ডা, কাশি, সর্দি, জ্বর, পেটব্যথা, মাথব্যথা, পাঁচ বছরের কম বয়সের শিশুদের পুষ্টিবিষয়ক সেবা , ডায়াবেটিকস , নমুনা দেখে রোগের যক্ষা পরামর্শসহ ৩০ ধরণের রোগের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। কিন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় বিশেষ করে আকাশ মেঘলা হলে ক্লিকের কক্ষ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এ কারণে রোগীদের সেবা দেওয়া কষ্ট হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে ও অনলাইনে রিপোর্ট পাঠাতে। এ কেমন ব্যাপার সরকার থেকে প্রতিটি ক্লিনিকে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়া হয়েছে দৈনিক অনলাইনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে রিপোট পাঠানোর জন্য। কিন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন মানুষের বাড়ি থেকে চার্জ করে এনে রিপোর্ট পাঠাতে হয়।
উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের আলীয়াপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা রহিমা বেগম বলেন, গত সোমবার তার এক আতœীয়কে নিয়ে তিনি ওই কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়েছিলেন। ওই দিন ছিল মেঘলা আকাশ। এ কারণে ক্লিনিকে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারেই তাদের চিকিৎসা করাতে হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ আস আদদীন মাহমুদ বলেন , ক্লিনিকগুলোতে বিদ্যুতের সংযোগ পেতে পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে ৩ বছর আগেই লিখিত আবেদন করা হয়েছে। কিন্ত এখন পর্যন্ত সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে ক্লিনিকগুলো চিকিৎসাসেবা দিতে ব্যাহত হচ্ছে।
কটিয়াদী জোনের পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম বলেন ,আবেদনগুলোর ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ক্লিনিকগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।