শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।

ঘর থেকে পালিয়ে ক্রিকেট খেলা শুরু করেছিলেন মরগান

ওয়ান নিউজ 24 বিডি ডেস্ক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৯
  • ৬২১ বার পড়া হয়েছে

স্পোর্টস ডেস্ক :

‘মরগান তিন বছর বয়সে ঘর থেকে পালিয়ে ক্লাবে আসা শুরু করেছিল ক্রিকেট খেলবে বলে। পরে তার বাবা তাকে রাস্তায় খুঁজে পেয়ে বাসায় নিয়ে যায়।’

আইরিশ সমুদ্র প্রান্তের এক জনগোষ্ঠীর কাছে ১৫ জুলাই সোমবার গর্বের একটা দিন। তারা সবাই জড়ো হয়ে আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠেছে। কারণ, তাদেরই সন্তান ইয়ন মরগান যে বিশ্বজয় করেছেন। ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিয়ে ৪৪ বছরের বিশ্বকাপ জয়ের খরা কাটিয়েছেন।

রাস ক্রিকেট ক্লাবে তখন অনূর্ধ্ব-১৭-এর মেয়েরা অনুশীলন করছে। তাদের অনূর্ধ্ব-১৫-এর মেয়েরা সাহায্য করছে। কিন্তু বাইরের মাঠে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ জড়ো হয়েছে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে। লর্ডসের এই আমেজ যে ডাবলিনের ১৫ মাইল উত্তরে রাসের উপকূলীয় অঞ্চলে ছড়িয়া পড়েছিল, মরগান নিশ্চয়ই তা অনুভব করেছেন। মরগানের অর্জনে গর্বিত এই জনগোষ্ঠীকে আনন্দে ভাসাতে তাই সেরা মঞ্চকে বেছে নিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডকে শিরোপা জিতিয়ে রাসের এই ছোট্ট শহরটাকে রাঙিয়ে দিয়েছেন।

রাসের এই ক্লাবের হয়ে ক্রিকেট খেলার হাতেখড়ি সদ্য বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়কের। সেই ক্লাবের খেলোয়াড়, কোচ, সভাপতি ম্যাট শেরিডন বলেন, ‘তার খেলা আমাদের এখানে আনন্দের উপলক্ষ হিসেবে কাজ করে। হয়তো খুব তাড়াতাড়ি তার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে। তার জন্য এই শিরোপা মধুর স্মৃতি হয়ে থাকবে।’ আসলে এই আইরিশ ইংল্যান্ডের জার্সি পরে মাঠে নামলেও তার প্রতিটি জয় এই ছোট্ট শহরটাকে গর্বে ভাসিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে তারা কোনো জাতিবিদ্বেষে ভোগে না। সেমিফাইনালে অজিদের বিপক্ষে জয়সূচক রান যখন মরগানের ব্যাট থেকে আসে তখন পুরো ব্রিটিশজাতি থেকেও বেশি উদ্বেলিত হয় এই আইরিশরা।

রাস ক্রিকেট ক্লাব ছেড়ে ২০ বছর আগে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে পাড়ি জমান ইয়ন মরগান। কিন্তু তার ছবি এখনো শোভা পাচ্ছে ক্লাবের দেয়ালে। শুধু তার নয়, তার বাবা এবং ছয় ভাইবোনের মাঝে একমাত্র ছোট ইভান ছাড়া সবার ছবিই রয়েছে ক্লাবটির কাছে। কারণ মরগানদের পারিবারিক শখ ছিল ক্রিকেট খেলা। যদিও পরিবারের ছোট ইভান সেদিকে পা বাড়াননি। রাস ক্রিকেট ক্লাবের সভাপতি শেরিডনের কণ্ঠেও ভেসে ওঠে সে স্মৃতি, ‘তাদের জন্য এটা সম্ভবত শখের চেয়ে বেশি কিছু ছিল, নেশার মতো। তারা যখনই সুযোগ পেত ক্রিকেট খেলত। বিশেষ করে মরগানের বাবা জডি ছিল ক্রিকেটের প্রতি বিশেষ অনুরাগী। সে হয়তো ভালো খেলত না তবে ক্রিকেটকে প্রচ- ভালোবাসত।’

বাবার এই গুণ মরগানের মাঝেও ছিল দাবি করে শেরিডন বলেন, ‘মরগান তার বাবার এই ভালোবাসাটাকে আঁকড়ে ধরেছে। প্রথমবার যখন সে ক্লাবে আসে তখন তার চেয়ে লম্বা একটা ব্যাট হাতে আমি তাকে দেখি। এরপর কখনো সে ক্লাবে আসা বন্ধ করেনি।’ আরও যোগ করেন, ‘মরগান তিন বছর বয়সে ঘর থেকে পালিয়ে ক্লাবে আসা শুরু করেছিল ক্রিকেট খেলবে বলে। পরে তার বাবা তাকে রাস্তায় খুঁজে পেয়ে বাসায় নিয়ে যায়।’

মরগানের ক্রিকেট পাগলামির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কোচ শেরিডন বলেন, ‘আমাদের অনূর্ধ্ব-১১ দলটি ছিল বয়সভিত্তিক দলের শুরু। তার বয়স যখন ৬-৭ তখন থেকেই সে ওই দলে খেলতে চাইত। এছাড়াও মেয়েদের খেলার সময় সে তার বোনের সঙ্গে চলে আসত। তাদের সঙ্গে খেলতে নামত। সে আর তার বোন ব্যাটিং করার সময় সে একাই খেলতে চাইত। প্রথম পাঁচ বলে হিট করে ওভারের শেষ বলে সিঙ্গেল নিত। তার বোনকে একটা বলও খেলতে দিতে চাইত না।’

১১ বছর বয়সে মরগান যখন ডাবলিনে চলে যান তখন থেকে আয়ারল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৩ দলের জন্য বিবেচিত হতে থাকেন। আয়ারল্যান্ডের হয়েও মাঠ মাতাতে থাকেন এই আইরিশ-ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তবে তার ইংল্যান্ডে পাড়ি জমানো নিয়ে অনেকে তাকে বিশ্বাসঘাতক বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। যদিও শেরিডন মরগানকে সমর্থন দিয়েছেন, ‘আমি মনে করি, ক্রিকেট কমিউনিটি তার এই সিদ্ধান্তকে সমর্থ করবে। কারণ আয়ারল্যান্ড ক্রিকেটকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেওয়া খুব কঠিন। এখানে ক্রিকেটকে অগুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়। তাই বাইরের মানুষ তাকে বিশ্বাসঘাতক বললেও ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িতরা তার পাশেই ছিল।’

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com