মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের চাউতলী বিট এলাকায় সামাজিক বনায়নের গাছ দেখিয়ে শতবর্ষী বিভিন্ন প্রজাতির ৬ হাজার গাছ কাটতে যাচ্ছে বনবিভাগ বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে লাউয়াছড়া বনের বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীদের খাদ্য ও বাসস্থান সংকটে পড়ার আশংকা রয়েছে। বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃত সংরক্ষন বিভাগের এমন উদ্যোগের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। তারা শতবর্ষী বৃক্ষ কর্তনের প্রতিবাদে করেছে মানববন্ধন ও পথসভা।
জানা যায়, চাউতলী এলাকার প্রায় ৩১ হেক্টর আয়তনের বাগানের গাছগুলোর বয়স ৫০ থেকে ১শ বছর। লাউয়াছড়ার জাতীয় উদ্যানের বণ্যপ্রাণীদের খাবারের জোগান দিয়ে থাকে চাউতলী এলাকার এ গাছগুলো। এখানে মূল্যবান গাছগাছালির পাশাপাশি রয়েছে জারুল, রিঠা, বহেরা, ডুমুর, হরীতকী, আমলকী, ডেউয়া, লটকান, লুকলুকি, কাঠ বাদাম, কাউফল, বন উরি, চাপালিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফল গাছ। যা থেকে ফল খেয়েই বেঁচে আছে বন্যপ্রাণীরা । ৩১ হেক্টরের এ বাগানে মাত্র ১০ শতাংশ উপকারভোগীদের লাগানো আকাশমণি এবং বেলজিয়াম গাছ রয়েছে। সম্প্রতি উপকারভোগীদের সেই বাগানের গাছগুলোর পাশাপাশি বনের শতবর্ষী গাছ এবং সব ফলের গাছ সহ মূল্যবান গাছে ‘লাল নম্বরযুক্ত’ করে কেটে ফেলার উদ্যোগ নেয় বণ্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ।
এদিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের চাউতলী এলাকায় শতবর্ষী বৃক্ষসহ ৬ হাজার গাছ কাটার অপচেষ্টার প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার দুপুরে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনী চত্ত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদসভা কমসূচি পালন করে লাউয়াছড়া জীববৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলন কমিটি। লাউয়াছড়া জীববৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলন কমিটি শ্রীমঙ্গলের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন ও পথসভায় পরিবেশবাদী সংগঠন (বাপার), ওয়াকার্স পার্টি, পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম, শিক্ষক, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বাপার সিলেট বিভাগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই লাউয়াছড়া রেইন ফরেস্টকে ধ্বংস করতে দেওয়া হবেনা। আমরা সংরক্ষিত বনে সামাজিক বানায়নের নামে আকাশমণি আর বেলজিয়াম গাছ লাগানোর পক্ষে ছিলাম না। এগুলো করাই হয়েছে দূরভিসন্ধিমূলকভাবে। সামাজিক বনায়নের নাম করে বনের শতবর্ষী প্রাকৃতিক ফলের গাছপালা ধ্বংস করার পাঁয়তারা চলছে। এ প্রসঙ্গে আমরা বনবিভাগের সংশ্লিষ্টতাকে উড়িয়ে দিতে পারি না। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান জীববৈচিত্র্যপূর্ণ সংরক্ষিত বন। এখানে বিরল ও বিপন্নপ্রায় চশমাপরা হনুমান, কুলু বানর, কোটা বানর, লজ্জাবতী বানর, উড়ন্ত কাঠবিড়ালি, বড় বাদুর, গন্ধগোকুল, উল্লুকসহ বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থল। তাদের খাদ্যসম্ভার হিসেবে পরিচিত ফলগাছগুলো কেটে ফেললে হুমকির মুখে পড়বে প্রাণীদের অস্তিত্ব।’
আলাপকালে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আ.ন.ম আব্দুল ওয়াদুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাকৃতিক ফলের গাছগুলো বাদ দিয়ে শুধু সামাজিক বনায়নের আওতায় লাগানো আকাশমণি-বেলজিয়াম গাছগুলোকে আবার নতুন করে মার্কিং (শনাক্ত) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগের তালিকা আর গ্রহণ করা হবে না।’