একদিকে হাওরের বোরো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে সংশয়, অন্যদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ। এই দুই নিয়ে দুশ্চিন্তায় আর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার হাওরাঞ্চলের কয়েক হাজার কৃষক পরিবার। এক ফসলি বোরো ধান কেটে গোলায় উঠাতে পারবে কিনা এ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার হাওরাঞ্চল সিংপুর, দামপাড়া, কারপাশা, সদর, গুরুই, জারইতলা ও ছাতিরচর এলাকার বোরো মাঠ ঘুরে দেখা যায়, জমিগুলো আশাতীত হৃষ্টপুষ্ট। ধানে পাকা রং ধরছে। ইতিমধ্যেই চরাঞ্চলে আগাম জাতের বিআর-২৮ ধান কাটা শুরু হয়েছে। শ্রমিক সমাগম চোখে পড়বার মতো নয়। কৃষকরা নিজেরাই স্বল্প পরিসরে এসব জমি কাটছেন। দু’-চারদিনের মধ্যেই সকল জমি কাটার উপযোগি হবে।
কৃষি-শ্রমিক নিকলী সদরের নয়াহাটি গ্রামের মরু মিয়া জানান, “জমি কাটায় যাইবো ক্যামনে, কাঁচি (কাস্তে) তো পাইতাছিনা। কামারের দোকান বন্ধ। হাট বাজারও বন্ধ। ঘরে যেইটা আছে হেইডারেও মেরামত করার ব্যবস্থা নাই।”
উপজেলা বড় হাওরের কৃষক আছির উদ্দিন মিয়া, খায়ুম মিয়া, রেজেক মিয়া জানান, করোনা আতঙ্কের কারণে এ বছর ধান কাটার শ্রমিক পাব না। যারা নিয়মিত ধান কেটে দিত এবার তারা আসবে না। উপজেলার দামাপড়া ইউনিয়নের কৃষক নবী হোসেন, সিংপুর ইউনিয়নের কৃষক সুনামদ্দিন, আলতু মিয়া, ও গুরই ইউনিয়নের কৃষক দুলাল মিয়া বলেন, ঘরে ধান তোলার আগ পর্যন্ত আমাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে হাওরের কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যান্য বছর দেশের কয়েকটি জেলা থেকে অনেক ধান কাটার শ্্রমিক আসতো। করোনা আতঙ্কের কারণে এবার শ্্রমিক ও আসবে না।
এখন কৃষকরা দাবি করছেন, উত্তরাঞ্চলের জেলা রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া প্রভৃতি অঞ্চল থেকে ধান কাটা শ্রমিকদের হাওরে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে কৃষিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা বৈঠক করে এসব এলাকার জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে ধান কাটা শ্রমিকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তা ছাড়া প্রশাসনের সহায়তায় নিরাপদে শ্রমিকবাহী গাড়ি হাওরে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। হাওরের কৃষক ও তাঁদের সোনার ফসল বাঁচাতে এর বিকল্প নেই।
উপজেলা নিকলী কৃষি কর্মকর্তার বেলায়েত হোসেন বলেন, এ বছর ২১ হাজার ৪শ’ হেক্টর মধ্যে মোট বোরো আবাদ হয়েছে ১৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। নিকলীতে খাদ্যর চাহিদা রয়েছে২৯ হাজার ২৮৭ মেট্রিক টন। উজেলায় বোরো ধান উৎপাদন হয় ৬৬ হাজার ৫৪৭ মেট্রিক টন যা চাহিদার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ,অকাল বন্যা,শিলাবৃষ্টি ক্ষয়কতি না হলে এবার বোরো বাম্পার ফলন হয়েছ। শ্্রমিক সংকটের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেখচ্ছেন।