সারাদেশের মত কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলাতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে হাটবাজারের নিত্যপণ্য খাদ্যপণ্যের দোকান ব্যতীত সকল প্রকার দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানীর পন্যসামগ্রী সরবরাহকারী যানবাহন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানী ডেটল ও স্যাভলন জাতীয় জীবাণুনাশক তরল বোতল জাতীয় সামগ্রী সরবরাহ না থাকায় সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়াও গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান বন্ধ থাকায় নতুন করে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট দেখা দেওয়ায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে নিকলী উপজেলার বাজারের ও বাণিজ্যিক ব্যাংক শাখাগুলো ঘুরে দেখা যায়, ২ দিন আগেও এসব ব্যাংকে প্রবেশকালে জীবাণুনাশক তরল প্রদার্থ গ্রাহাকদের হাতে স্প্রে করে দিতেন। কিন্তু ডেটল ও শেভলনের সংকট দেখা দেওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অনেক ব্যাংক শাখায় জীবাণুনাশক তরল পদার্থ স্প্রে করতে পারছেন না।
তারা বলেন, তাদের স্টকে কিছু জীবাণুনাশক তরল পদার্থ আছে। তা দিয়ে আপাতত কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার ব্যাংকে আসা গ্রহকদের ভিতরে প্রবেশকালে আর জীবাণুনাশক তরল পদার্থ স্প্রে করা যাবে না। কারণ হিসেবে তারা জানান, গত দুই দিন ধরে বাজারের কোন ফার্মেসীতে ডেটল, শেভলন ও জীবাণুনাশক কোন প্রকার তরণ পদার্থ পাওয়া যাচ্ছে না। যানহাবহন চলাচল বন্ধ থাকায় জেলা সদর থেকেই এসব জীবাণুনাশক তরল পদার্থ আনা যাচ্ছে না।
নিকলীর জুয়েল ফার্মেসী মালিক মিল্টন বলেন, জীবাণুনাশক হিসেবে প্রথম দফায় প্রয়োজনে মানুষজন ডেটল ও শেভলন কিনে নিয়ে গেছেন। বর্তমানে কোম্পানীগুলো বোতলজাত ডেটল ও শেভলন সরবরাহ করছে না বলে বাজারে এগুলোর সংকট দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করে একটি ঔষধ প্রস্তুতকারী কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, এগুলোর আপাতত সরবরাহ নেই বলে ফার্মেসীগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে না। এ জন্য আপাতত সংকট দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে বাজারের হার্ডওয়ার দোকান থেকে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় করা হলেও গত ২৫ মার্চ থেকে সিলিন্ডারের গ্যাস দোকানগুলো বন্ধ থাকায় বাসায় এলপি গ্যাস ব্যবহারকারীরা সিলিন্ডার কিনে নিতে পারছেন না। এ অবস্থায়নিকলীতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। কয়েকজন এলপি গ্যাস ব্যবহারকারী জানান, তারা বাসায় একটি অতিরিক্ত সিলিন্ডার রেখেছিলেন। তা দিয়ে আপাতত রান্নার কাজ চলছে। তবে আগামী ২-৩ দিন পর আবারও নতুন করে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হবে। তবে গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান না খুললে তাদের রান্নাবান্না বন্ধ থাকতে হবে। গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়কারী টিটুল সাহা বলেন, তিনি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় করেন গ্যাস না থাকায় ক্রেতাদের কাছে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রয় করতে পারছেন।
এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামছুদ্দিন মুন্না বলেন, ‘হার্ডওয়ারের দোকানদাররা চাহিদামত ক্রেতাদের কাছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় করতে পারবে। তবে হার্ডওয়ারের অন্য সামগ্রী বিক্রি করতে পারবে না। দাম বৃদ্ধি ও বেশি রাখতে পারবে না। জ্বালানি হিসেবে তারা শুধু গ্যাস সিলিন্ডিার বিক্রয় করবেন। এসময় দোকানে অহেতুক কোন প্রকার লোক সমাগম বা আড্ডা দিতে পারবেন না।