লিবিয়ায় মানব পাচারকারিদের হাতে নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার ২৬বাংলাদেশীসহ আরো ১১বাংলাদেশী গুরুতর আহতের ঘটনায় জড়িত ভৈরবের তিন মানব পাচারকারি (দালাল) কে গ্রেফতার করেছে সিপিসি-৩, র্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যরা। মুক্তিপণ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে মানব পাচারকারিদের হাতে এই নৃশংস হত্যাকান্ডের পর থেকেই ভৈরবের দালালদের গ্রেফতারে ছায়া তদন্তে নামে র্যাব।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাবের গোয়েন্দা নজরধারিতে গ্রেফতার হয় ভৈরবের শম্ভপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আহাদ মিয়ার ছেলে মানব পাচারকারি হেলাল মিয়া ওরফে হেলু (৪৫), পৌর শহরের তাতাঁরকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ মিয়ার ছেলে মোঃ খবির উদ্দিন (৪২) ও পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সুরুজ মিয়া সরকারের ছেলে শহিদ মিয়া (৬১)। গতকাল মঙ্গলবার ভৈরব র্যাব ক্যাম্পের কোম্পানী অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের ও সিনিয়র এডি চন্দন দেবনাথ এর নেতৃত্বে ভৈরবের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। আজ বুধবার দুপুরে ভৈরব র্যাব ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলণে উপস্থিত হয়ে র্যাব-১৪ এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ এফতেখার উদ্দিন (বিপিএম সেবা, পিএসসি,এলএসসি) এসব তথ্য জানান।
প্রসঙ্গতঃ গত ২৮মে লিবিয়ায় মেজদা শহরে মানবপাচারকারি একটি চক্র অবৈধভাবে মুক্তিপণের টাকা আদায় করতে না পেরে ২৬বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এসময় আরো ১১বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়। এর মধ্যে লিবিয়ায় অবস্থানরত ভৈরবের ৬জন নিহত হয় এবং আহত হয় আরো ৩জন। নিহতরা হলেন, উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের মেহের আলীর ছেলে সাদ্দাম হোসেন আকাশ (২৫), শ্রীনগর ইউনিয়নের বাচ্চু মিলিটারির ছেলে সাকিব মিয়া (১৮), শিবপুর ইউনিয়নের শম্ভপুর গ্রামের মোখলেছ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী(২৫), ভৈরববাজারের অধীর চন্দ্র ঋষির ছেলে রাজন চন্দ্র দাস (২৭) ও অজ্ঞাতনাম শাকিল (২০) ও মাহবুবুর রহমান (২১)। আহতরা হলেন, সৌরভ আহমেদ সোহাগ (২২), সজল (২০) ও জানু মিয়া (২৭)।
সংবাদ সম্মেরণে মানব পাচারকারিদের বিভিন্ন কৌশলের বিস্তারিত তুলে ধরে র্যাব-১৪ এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ এফতেখার উদ্দিন জানিয়েছেন মানব পাচাকারি চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে র্যাবের গোয়েন্দা নজরধারি অব্যাহত থাকবে। এসময় স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সংবাদকর্মীসহ অন্যান্য র্যঅব সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।