সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় দক্ষিণাঞ্চলে শুরু হয়েছে যমুনার তীব্র ভাঙন। নতুন করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বুধবার ভোর থেকে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চরবিনানই ও ঘুশুরিয়া চরের অন্তত অর্ধশত বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষার শুরু থেকেই যমুনার রাক্ষুসী থাবায় একে একে বিলীন হয়েছে বাঘুটিয়া ও খাষপুখুরিয়া ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ও বেশ কয়েকটি মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
বিশেষ করে গত এক সপ্তাহে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চরবিনাই ও ঘুশুরিয়া চরে ভাঙনের তা-বলিলায় ৫০ ঘরবাড়ি চলে গেছে নদীর পেটে। বসতভিটা নদীতে বিলীন হওয়ায় ঘুশুরিয়া চরের মৎস্যজীবী হারেজ আলী, দিনমজুর আবদুল মতিন ও জহুরা খাতুনসহ বহু মানুষ তাদের ঘরের টিনের চালা অন্যত্র নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। তবে এখনও ভাঙন ঠেকাতে পাউবো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঘুশুরিয়া চরের বাসিন্দা সেলিম মোল্লা ও পশু চিকিৎসক আবদুল আলীম জানান, একদিকে বন্যা, সাথে করোনার দুর্যোগে আবারও নদীভাঙন শুরু হওয়ায় চরের মানুষ দিশাহারা। যেখানে নিজেদেরই থাকার জায়গা নেই, সেখানে গবাদিপশু নিয়ে চরের প্রায় আড়াই শতাধিক পরিবার বিপাকে পড়েছে। কে কোথায় যাবে সেই চিন্তায় অস্থির। তবে ভাঙন রোধে পাউবো কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় দক্ষিণাঞ্চল হুমকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফসানা ইয়াসমিন জানান, ভাঙনকবলিত এলাকা রক্ষায় পাউবো ইতোমধ্যে প্রকল্প জমা দিয়েছে। এছাড়া খাষপুখুরিয়া ইউনিয়নের দেওয়ানগঞ্জ বাজার এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে আজ ১০ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হবে।