কিশোরগঞ্জের নিকলীর উপজেলার হাওরে কৃষকের ফসলের মাঠের হাওরে হলুদ বর্ণে সরিষা ফুলের হাসি দেখে মনে হবে যেন রাজকুমারীর গায়ে হলুদ। এই সরিষা ফুলের মাঠে এসেছে নানা জাতের প্রজাপতি, মৌমাছি, পোকামাকড় থেকে শুরু করে অন্যান্য পাখিরাও।
এমনই চোখ ধাঁধানো প্রকৃতির রূপ দেখা যায় নিকলী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওর এলাকায়। যত দূর চোখ যায়, তত দূর দেখা যায় হলদে রঙের সরিষা ফুল। বিশাল এ মাঠ দূর থেকে দেখে মনে হয় বিশাল আকৃতির হলুদ চাদর বিছানো।
ধুলা আর কুয়াশায় ধূসর প্রান্তরের মাঝেও দূর থেকে চোখে ভেসে উঠে সরিষার হলুদ। বিস্তীর্ণ মাঠের চারদিকে হলুদের সমাহার। পৌষের ভর শীতেও প্রকৃতিতে মনে হচ্ছে বসন্তের ছোঁয়া।
উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের সরিষার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, নানা রঙের প্রজাপতিতে ভরে আছে সরিষার ক্ষেত। নীল, সবুজ, লাল-নীলের ডোরাকাটা বিভিন্ন রঙের প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে। কোথাও ঝলক দিয়ে উঠছে কালো ডানায় হলুদ-লালের মিশ্রণ। রঙ-বেরঙের প্রজাপতির এমন ডানা ঝাপটানো হৃদয়ে জাগাবে নবতর আনন্দ। প্রজাপতিরা এখানে আসে বিশ্রাম নিতে। অনেক দূর উড়ে উড়ে ঘুরে বেড়ানোর পর সরিষার মাদকতা তাদের আকৃষ্ট করে। প্রজাপতির সঙ্গে ভ্রমরও মধু খুঁজে ফিরছে এই ফুলে। এই সুযোগে মৌয়ালরা মৌমাছি চাষ করে এই মধু সংগ্রহ করছেন সরিষার মাঠ থেকে।
এছাড়াও, বিভিন্ন গ্রামের সরিষার মাঠে হুমড়ি খেয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন শহুরে মানুষজন। সরিষার ঝাঁজালো ঘ্রাণে মুখরিত চারদিক। বেশিরভাগই ফুলে এই সময়ে গন্ধ থাকে না কেবল সরিষা ফুল ছাড়া। নিকলী উপজেলা কমপ্লেক্্েরর আর এম ও সালেহ আহেমেদ কামাল বলেন সরিষা ফুলের এ ঘ্রাণে ফুসফুসের উপকার হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, কোভিড-১৯ এ কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য প্রণোদনা হিসেবে কৃষকদের মাঝে সরিষার বীজ বিতরণ করায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চাষ হয়েছে। ৫০০ একর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও চাষ করা হয়েছে ৫৫০ একর জমিতে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ভালো ফলনে আশাবাদী তিনি।