কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার জারুইতলা ইউনিয়নের সাজনপুর গাছতলা গ্রামে চাদনী (২০) নামে এক মা তার তিন বছরের শিশু সন্তান জোবায়েতকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ একই গ্রামের হামিদ বৈপারীর বাড়ির পুকুর পাড়ে ফেলে রেখে যায়। পুলিশ মা চাদনীকে গ্রেপ্তার করেছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার সময়। শিশু জোবায়েতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশু জোবায়েত উপজেলার সাজনপুর গ্রামের করিম মিয়ার (২৬) ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া শিশু জোবায়েতের মা চাদনী পুলিশের কাছে সন্তানকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
মামলা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪ বছর আগে নিকলী উপজেলার সাজন পুর গ্রামের নুর মিয়ার ছেলে করিমের সাথে একই গ্রামের মজলু মিয়ার মেয়ে চাদনীর বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের তিন বছরের জোবায়েত নামে একটি পুত্র রয়েছে। বিভিন্ন কারণে সংসারে বনিবনা না হওয়ায় গত ২ বছর পূর্বে চাদনী স্বামী করিম মিয়ার বাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়িতে চলে যায়।
জোববেয়েত মাঝে মধ্যে মা চাদনীর কাছে যেত। ঘটনার দিন শুক্রবার দুপুরে জোবায়েত মার কাছে গেলে ,বিকেলেও জোবায়েত ফিরে না আসায় করিমের মা সুফিয়া বেগম চাদনীর বাড়ীতে খুঁজ করতে গেলে চাদনী বলে, জোবায়েত চলে গেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার সময় একই গ্রামের হামিদ বৈপারীর বাড়ির পুকুর পাড়ে জেবায়েতের লাশ ফেলে রেখে যায়।
রাত ৮ টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। হত্যকান্ডে ঘটনায় করিম বাদী হয়ে শনিবার সকালে চাদনীকে আসামী করে নিকলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর আগেই পুলিশ ঘাতক মা চাদনী কে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সন্তান হত্যার দায় স্বীকার করেন।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মসুর আলী আরিফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাদনী তার শিশু পুত্রকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। চাদনী বলেছে, ছেলে জোবায়েত এর কারণে চাদনীকে কেউ বিয়ে করতে আগ্রহী হবে না মনে করে হত্যা করে।