কিশোরগঞ্জের নিকলীতে গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক ও গো-খামারিরা।
গো-খামারি ও গো-খাদ্য ব্যবসায়ীরা জানান, গত দু’মাস আগেও ফিড প্রতি বস্তা ৭৫০ থেকে ৯৫০, গমের ভুষি প্রতি বস্তা ১ হাজার ২০০ টাকা, ছোলার ভুষি প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ধানের কুড়া প্রতি কেজি ১০ থেকে ১৫ টাকা, চালের খুদ প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা, সরিষার খৈল প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং লবণ প্রতি কেজি ১০ থেকে ১২ টাকা ছিল। কিন্তু বর্তমানে ফিড প্রতি বস্তা ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, গমের ভুসি ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা, ছোলার ভুষি প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা ধানের কুড়া প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, চালের খুদ প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, সরিষার খৈল প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং লবণ প্রতি কেজি ২২ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার সিংপুর গ্রামের গো-খামারি ও কৃষক কাবিল সর্দার জানান, বর্তমানে আমার খামারে গাভীসহ আটটি গরু আছে। যেভাবে দিন দিন গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে হারে আমরা গরু পালন করে লাভবান হতে পারবো না। দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি গরুকে খড় খাওয়ালে উৎপাদন খরচ কিছুটা কম হয়। কিন্তু এবছর খড়ের দামও বাড়ছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে গরু পালন সম্ভব হবে না।
উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কে এম তানজির নাহিম জানান, গো-খাদ্যের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। খামারিরা ঘাস আবাদ করলে দানাদার খাদ্যের পরিমাণ কম লাগবে। এতে তাদের উৎপাদন খরচ কমবে ফলে খামারি লাভবান হবেন।
উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় নিবন্ধিত খামারের সংখ্যা ২ টি ও অনিবন্ধিত ২৮৩ টি। পাশাপাশি দুধ উৎপাদন হচ্ছে প্রতি বছরে ১৮ হাজার ৫২৪ মেট্রিক টন এবং মাংস ১০ হাজার ৭১ মেট্রিক টন।