কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ঘন কুয়াশায় আর কনকনে শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনপদ। বেশ কয়েকদিন ধরেই বাড়ছে শীতের তীব্রতা। মাত্রাতিরিক্ত কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে পুরো উপজেলা। একই সঙ্গে কমছে তাপমাত্রা। এতে বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষগুলো।
নিকলী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র পর্যবেক্ষণ কর্মকর্তা আক্তার ফারুক বলেন, বৃহস্পতিবার (১৯জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০ টায় দশ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ৯-১০ মধ্যে উঠা নামা করছে। দিন দিন এ উপজেলার তাপমাত্রা আরও কমতে থাকবে এবং শীতের তীব্রতা বাড়বে।
রিকশাচালক হিমন মিয়া বলেন, যে কনকনে ঠান্ডা আর ঘনকুয়াশা পড়েছে রিকশা বের করে বিপদে পড়েছি। রিকশা হান্ডেল ধরে রাখতে পারছি না। শরীর বরফ হয়ে যাচ্ছে।
দিনমজুর খলিল হোসেন বলেন, এত ঠান্ডা কাজে বের না হয়ে কি করি সংসার তো চালাতে হবে। কাজ না করলে বউ বাচ্চাকে কি খাওয়াবো।
এদিকে শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ। বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বৃদ্ধ ও শিশুরা। উষ্ণ কাপড় না থাকায় অনেকে খড়কুটো পুড়িয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। কেউবা আশায় বুক বেধে আছেন এক টুকরো গরম কাপড়ের জন্য।
নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সজীব ঘোষ বলেন, নিকলী হাসপাতালে গত মাসের চেয়ে এ মাসে ১০ থেকে ১২ শতাংশ রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এছাড়াও আউটডোরে প্রতিদিন ৩০০-৪০০ রোগী চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেড়েই চলছে।
নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছঃ শাকিলা পারভিন বলেন, নিকলীর জেলার সাতটি ইউনিয়নে ২ হাজার ৭০০ শীতবস্ত্র বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা বিতরণের কার্যক্রম অব্যাহত। এছাড়াও দুস্থ ও অসহায় মানুষদের পাশে সরকারি বেসরকারিভাবে বিভিন্ন সংগঠন শীতবস্ত্র বিতরণের কাজ শুরু করছে।