বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১০ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, নিকলীতে গোবরের জ্বালানিতে ঝুঁকছেন গ্রামের মানুষ

দিলীপ কুমার সাহা, নিকলি, কিশোরগঞ্জ
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
  • ১২২ বার পড়া হয়েছে
গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, নিকলীতে গোবরের জ্বালানিতে ঝুঁকছেন গ্রামের মানুষ

গ্যাসের দাম বেড়েছে। সরবরাহও কমে গেছে। তবে এ সংকট সমাধানে বিকল্প খুঁজে নিয়েছেন কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার গ্রামাঞ্চলের মানুষ। গোবরের জ্বালানিতে ভর করছেন তারা। গ্রামাঞ্চলের বেশিরভাগ পরিবারেই গরু রয়েছে। গরুর গোবর দিয়েই তৈরি হচ্ছে এসব জ্বালানি। বাড়তি খরচ নেই। ফেলারও কিছু নেই। ছাই পর্যন্ত কাজে লাগে। এজন্য কদর বেড়েছে এসব জ্বালানির।

নিকলী সদর, সিংপুর, দামপাড়া, কারপাশা, জারুইতলা, গুরুই ও ছাতিরচর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা হাওরবেষ্টিত। যুগ যুগ ধরে হাওরাঞ্চলের মানুষের কাছে জনপ্রিয় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ‘চটা’ ও ‘গুমুট’।গরুর গোবর, ধানের কুড়া ও খড় আর পাট কড়ি হলেই তৈরি করা যায় এসব জ্বালানি। প্রথমে ধানের খড় গোল করে বিছিয়ে দুপাশে গোবর লেপন দিয়ে তৈরি হয় চটা। পরে রোদে ভালো করে শুকিয়ে স্তুপ করে রাখা হয়। এরপর এগুলো কেটে টুকরা টুকরা করে চুলায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অপরটিকে বলা হয় ‘গুমুট’। গোবরের সঙ্গে ধানের কুড়া মিশিয়ে একটি পাট কড়িতে মুষ্টি লেপন দিয়ে তৈরি হয় এটি। এরপর রোদে ভালো করে শুকিয়ে নিতে হয়। শুকিয়ে গেলেই ব্যবহার করা যায় জ্বালানি হিসেবে।

এসব জ্বালানি দিয়ে আগুন ভালো জ্বলে। খাবারেও বাড়তি স্বাদ মেলে। জ্বালানি শেষে এ থেকে বের হওয়া ছাই ফসলের জমিতে ব্যবহার করা হয়। এটি একই সঙ্গে উৎকৃষ্ট সার ও পোকা দমনেও ভূমিকা রাখে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েক বছর আগেও গ্রামাঞ্চলে এলপি গ্যাস সহজলভ্য হয়ে ওঠে। ঘরে ঘরে শুরু হয় গ্যাসের ব্যবহার। কিন্তু গ্যাসের সংকট দিন দিন এটির দামও বেড়ে হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ফলে এলপি গ্যাস অনেকটা দুর্লভ হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় জ্বালানি সংকট সমাধানে গ্রামের মানুষ আবারও আগের জ্বালানিতে ফিরে যেতে শুরু করেছেন। এখন গ্রামাঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়েই দেখা মেলে চটা ও গুমুট। বাড়িতে বাড়িতে স্তুপ করে রাখা হয়েছে।

নিকলী উপজেলার নাগারছি হাটি গ্রামের বাসিন্দা আলিসলাম মিয়া বলেন, আগে গ্যাসের দাম ছিল ৬০০-৭০০ টাকা। এখন হয়েছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ০০ টাকা। এত টাকা দিয়ে এখন আমাদের পক্ষে গ্যাস ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তাই ধানের খড় (স্থানীয় ভাষায় ন্যাড়া) আর গরুর গোবর দিয়ে চটা তৈরি করি। এটা দিয়ে রান্না করি। এর ছাই মাঠে ছিটিয়ে দিই। সারের কাজ করে। গৃহিণী নুরজাহান বলেন, গ্যাসের দাম বেশি। এখন আমরা গ্যাস কিনতে পারি না। তাই চটা দেই। এগুলো শুকিয়ে গেলে তা দিয়ে রান্না করি।

নিকলী উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়া তুলিপ বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি চটা, গুমুট দিয়ে আমাদের মা-চাচিরা রান্না করেছেন। মধ্যে গ্যাস সিলিন্ডার আসার পর এ ধরনের জ্বালানি কিছুটা কমে যায়। গ্রামগঞ্জেও সিলিন্ডার সহজলভ্য হয়ে ওঠে। এখন গ্যাসের দাম বাড়ায় গ্রামের মানুষ আবারও গোবরের জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন।

নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সজীব ঘোষ জানান, গোবর ঘুঁটের ধোঁয়া শ্বাস-প্রশ্বাস এবং লান্সের জন্য ক্ষতিকারক। হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ায়। এছাড়া গোবরে ক্ষতিকারক আর্সেনিক রয়েছে। ধোঁয়ার মাধ্যমে সেই আর্সেনিক মানবদেহে প্রবেশ করে। যা কারণে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

নিকলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, গোবর একটি উপকারি জৈব সার। তাই এটি জমিতে ব্যবহার করা উচিৎ। ঘুঁটে হিসেবে এর ব্যবহার মানবদেহের ক্ষতিকর। এছাড়া গোবর থেকে বায়োগ্যাস তৈরি করা যায়, যা জ্বালানি হিসেবে ভালো ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ভাবিত ভার্মি কমপোস্ট তৈরি করতেও গোবর অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপদান। জৈব সার হিসেবে এটি জমিতে ব্যবহারে ফসলের উৎপাদন কয়েকগুন বাড়ে। তাই ‘গোবরের ব্যবহার হবে জমিতে, চুলায় নয়।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com