কিশোরগঞ্জে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইডিপি) অন্তর্ভুক্ত স্ট্রেংদেনিং রিডিং হ্যাবিট অ্যান্ড রিডিং স্কিলস অ্যামাং সেকেন্ডারি স্টুডেন্টস স্কিম-এর আওতায় পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার ( ১৩ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্মৃতি মিলনায়তনে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার শাসছুন নাহার মাকছুদা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রোকন উদ্দিন আহম্মদ এবং গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবদুল হাফিজ মাহমুদ। এছাড়াও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের ৬৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং একজন করে সংগঠক উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রোকন উদ্দিন আহম্মদ। তিনি বলেন, বই পড়ায় কোনো ক্ষতি নেই। বই হলো নিঃস্বার্থ বন্ধু। কোনো শিক্ষার্থী যদি হতাশা এবং বিষণ্নতায় ভোগে তখন বই একজন ভালো বন্ধু হিসেবে পাশে দাঁড়ায়। সাদা কাগজের মাঝে কালো লেখার যে শক্তি আছে পৃথিবীর আর কোথাও তা নেই। সেই শক্তি পারমানবিক শক্তির চেয়েও বেশি শক্তিশালী।
উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপনের মাধ্যমে ‘পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি’র কর্মপরিকল্পনা, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন আবু বক্কার লিটন, টিম ম্যানেজার, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এবং বার্ষিক কর্ম-পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন ফোরকান, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।
টিম ম্যানেজার আবু বক্কার লিটন বলেন, উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালার অন্যতম উদ্দেশ্য মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তাদের মন এবং বয়স উপযোগী বই পড়ায় আগ্রহী করে তোলা। পাঠাভ্যাসের প্রসার ও সুযোগ বৃদ্ধি করা। কর্মসূচি পরিচালনার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন, বইপড়া শেষে মূল্যায়নের ভিত্তিতে পুরস্কার প্রদান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি টেকসই ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। বইপড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আজকের এই কর্মশালা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা শিক্ষা অফিসার শামছুন নাহার মাকছুদা মোবাইল ফোনের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমিয়ে শিক্ষার্থীরা পাঠাভ্যাসের প্রতি যাতে বেশি মনোযোগী হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আবেদন রাখেন।
কলেজ প্রতিনিধি গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবদুল হাফিজ মাহমুদ এমন একটি মহতী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে নিজেকে ধন্য মনে করে বলেন, বইয়ে থাকে বিদ্য, বইয়ে থাকে যাবতীয় জ্ঞানের একটি লিপিবদ্ধ অবস্থা। আর সেই বিদ্যা এবং জ্ঞান শীক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হলে পাঠাভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই।
উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালায় উন্মুক্ত আলোচনা পরিচালনা করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র টিম ম্যানেজার আবু বক্কার লিটন। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ফোরকান, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। এছাড়াও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এন এম বদরুজ্জামান তালুকদার ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী। সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বইপড়া যাতে শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে না দেওয়া হয় এবং তারা যাতে আনন্দের সাথে বই পড়ে এবিষয়ে শিক্ষকদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং সরকারের পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করে কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।