কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইডিপি) অন্তর্ভুক্ত স্ট্রেংদেনিং রিডিং হ্যাবিট অ্যান্ড রিডিং স্কিলস অ্যামাং সেকেন্ডারি স্টুডেন্টস স্কিম-এর আওতায় পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
মোঃ আবু সাঈদের সঞ্চালনায় নিকলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নুরুজ্জামান হাবীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিকলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রীতিলতা বর্মন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক খাইরুল আলম। এছাড়াও নিকলী উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং একজন করে সংগঠক উপস্থিত ছিলেন। পুরো কর্মশালাটি পর্যবেক্ষণ করেন পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির ডেপুটি টিম লিডার (প্রোগ্রাম) মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ।
উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আরাধন কুমার দেব। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপনের মাধ্যমে ‘পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি’র কর্মপরিকল্পনা, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন আবু বক্কার লিটন, টিম ম্যানেজার, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এবং বার্ষিক কর্ম-পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন ফোরকান, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।
টিম ম্যানেজার আবু বক্কার লিটন বলেন, উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালার অন্যতম উদ্দেশ্য মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তাদের মন এবং বয়স উপযোগী বই পড়ায় আগ্রহী করে তোলা। পাঠাভ্যাসের প্রসার ও সুযোগ বৃদ্ধি করা। কর্মসূচি পরিচালনার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন, বইপড়া শেষে মূল্যায়নের ভিত্তিতে পুরস্কার প্রদান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি টেকসই ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। বইপড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আজকের এই কর্মশালা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিকলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতিলতা বর্মন বলেন, একমাত্র বই পড়ে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে অন্ধকার দূর করা সম্ভব। বই মানুষের মানসিকতাকে উন্নত করে বিশ্বকে পরিবর্তন করতে পারে। তাই তিনি সকল শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান করেন, যাতে প্রতিটি ঘরে বই পড়ার চর্চা গড়ে তোলা হয়।
উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালায় উন্মুক্ত আলোচনা পরিচালনা করেন আবু বক্কার লিটন, টিম ম্যানেজার, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ফোরকান, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। এছাড়াও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন নিকলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নুরুজ্জামান হাবীব। সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমাদের এই হাওর এলাকার শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থী। এরা ছয় মাস হাওরে মাছ ধরে এবং ছয় মাস চাষাবাদে বাবা-মাকে সহযোগিতা করার কারণে প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকে কম। ফলে পড়াশোনায় উৎসাহ বোধ করে না। এর প্রেক্ষিতে বর্তমান সময়ে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ অনেকাংশে বেড়েছে। পাশাপাশি সরকারের এই বইপড়া কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় আরও বেশি উৎসাহ বোধ করবে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান, গ্রন্থাগারিক, সকল শিক্ষক, এমসি সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই কর্মসূচি সফল বাস্তবায়ন হবে এবং সরকারের এসডিজি-৪ পালনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে।