গত বছর বোরো ধানের দাম কম থাকায় কৃষক উৎপাদন খরচ তুলতে না পারলেও এবার কৃষক যখন বোরোর বাম্পার ফলনের কারনে স্বপ্ন দেখছে, ওই মহুুর্তে বি-২৮ জাতের পাকা ধান কাটার সাত দিন আগেই ক্ষেতে নেক ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় কৃষকের হাসি মুখ মলিন হয়ে যাচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার পনরটি হাওরে বি-২৮ জাতের পাকা বোরো ধান ক্ষেতের শীষে নেক ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছে। হাওরগুলো হলো বরুলিয়া হাওর,জোহানশাহী হাওর,পরানের চর, রবিরচর, সিংপুর হাওর,ঘোড়াদীঘা হাওর, বাটিবরাটিয়া হাওর, কুর্শা হাওর, ছাতিরচর হাওর, গুরুই হাওর, কারপাশা হাওর, কারপাশা বড় হাওর, দামপাড়া হাওর, জারুইতলা হাওর, ও নিকলীর বড় হাওরগুলোতে নেক ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত বেশি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানান, চলতি মৌসুমে নিকলীতে ৩৬ হাজার ৩৭৫ একর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বি-২৮ ধান ৪ হাজার ১২৫ একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) সরজমিনে বিভিন্ন হাওরঘুরে ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আর এক সপ্তাহ পরথেকেই ব্রি -২৮ জাতের ধান কাটা শুরু হতো। এর আগেই নেক ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছে। সদর ইউনিয়নের গবীন্দ্র পুর গ্রামের আব্দুল মিয়া বলেন, আমার দেড় একর ব্রি -২৮ ধানের জমিতে নেক ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় জমির পাকা ধানসহ ও গাছ চোখের সামনে মরে যাচ্ছে, একই কথা বলেন ষাইটধার গ্রাসের আঃ রহিম।
কারপাশা ইউনিয়নের নানশ্রী গ্রামের কৃষক ইয়াসিন জানান, বড় হাওরে আমার দুই একর জমিতে এ রোগ দেখা দেওয়ায় ধান গাছ কেটে আর বাড়িতে আনতে হবে না, জমিতে ধান গাছগুলো মরে খড় হয়ে গেছে। সিংপুর ইউনিয়নের কৃষক আসাদুল মিয়া, দামপাড়া ইউনিয়নের ইসমাইল মিয়া, ছাতিরচর ইউনিয়নের আসাদ মিয়া, জারুতলা ইউনিয়নের সাদেকুর রহমান ও গুরুই ইউনিয়নের মোঃ কাদির মিয়া জানান, হাওরে জমিতে ওই রোগ দেখা দেওয়ায় বছরের এক মাত্র বোরো ফসল ঘরে তুলতে না পারায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে, ওই রোগে আমাদের জমির ধান সব শেষ করে ফেলেছে। কী করবো আল্লাহ মাহমুদ জানেন। ব্রি-২৮ জাতের ধানের জমিতে নেক ব্লাষ্টার রোগে আমাদের সবস্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে। নিকলী উপজেলার কৃষকের মধ্যে এ মুহুুর্তে এক ধরণের আতংঙ্ক বিরাজ করছে।
উপজেলা উদ্ধিদ সংরক্ষণ ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ গোলাম মোস্তাফা বলেন, নেক ব্লাষ্ট রোগের সৃষ্টি হয় রাতে কুয়াশা, দিনে গরম এবং রাতে শীত,গুড়ি-গুড়ি বৃষ্টি থেকে। কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে চেষ্টা করছি।
নিকলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ বেলায়েত হোসেন বলেন, নেক ব্লাষ্ট রোগে ব্রি-২৮ জাতের পাকা বোরো ধানের জমি আক্রান্ত হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ রোগ দেখা দিয়েছে ব্যাপক আকারে। রোগ প্রতিকারের জন্য উপজেলা কৃষি বিভাগ কৃষকদের নাটিবো, এমষ্টিরটপ ও টুপার ও নামক কীটনাশক একরে ১২০ মিলিগ্রাম ওষুধের সাথে ২০০ লিটার পানিতে মিশিয়ে জমিতে স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছে। তা ছাড়া চলতি বছর কৃষকরা ব্রি ২৮ জাতের ধান জমিতে না করার জন্য জমি আবাদের আগেই উপজেলা কৃষি অফিস থেকে লিফলেট ও পরার্মশ দিয়েছি। কিন্ত কৃষকরা কথা শুনেনি।