বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।

নিকলীতে বোরো ধান কাটার ধুম, বেশি টাকা দিয়েও শ্রমিক মিলছে না

দিলীপ কুমার সাহা, নিকলি, কিশোরগঞ্জ
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১১৯ বার পড়া হয়েছে
নিকলীতে বোরো ধান কাটার ধুম, বেশি টাকা দিয়েও শ্রমিক মিলছে না

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় এখন বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে পাকা ধান হাওরে থাকলেও ধান কাটার শ্রমিকের অভাবে কৃষকরা পড়েছে বিপাকে। হাওরে পাকা ধান কাটার জন্য বেশি টাকায় শ্রমিক নিতে হচ্ছে। নিরুপায় কৃষক বাড়তি টাকা দিয়েই শ্রমিক লাগিয়ে ধান কাটছেন। এ দিকে ধানের দাম কম থাকায় শ্রমিকের পেছনে ওই বাড়তি ব্যয়ের জন্য কৃষকেরা আরো বেশি লোকসানের মুখে পড়ার শংঙ্খা করছেন।

প্রতি বছর বোরো ধান কাটার মৌসুমে রংপুর,নিলফামারী ,কুড়িগ্রাম,রৌমারী,বগুড়া, নেত্রকোনা, কলমাকান্দা,মদন. আটপাড়া, সুশনদুর্গাপুর, মোহনগঞ্জ, কেন্দুয়া, শেরপুর ,হালুয়াঘাট, টাংঙ্গাইল,নান্দাইল, পাকুন্দিয়া ও হোসেনপুর এলাকা থেকে কয়েক হাজার ধান কাটা শ্্রমিকেরা নিকলী উপজেলায় আসেন বোরো ধান কাটার জন্য।এ বছর ওই এলাকার শ্রমিক আসেনি, এ কারণে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফল হয়েছে। তবে শ্রমিক-সংকট ভাবাচ্ছে চাষিকে। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, দুশ্চিন্তার কারণ নেই। ফসল কাটতে বিতরণ করা হয়েছে ৪৫টি ধান কাটার যন্ত্র।

বুধবার (২৬ এপ্রিল) সকালে নিকলী বটতলা মৌমুমি কৃষি শ্রমিক হাটে ১৫-২০ জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগেও একজন কৃষি শ্রমিকের মজুরি ছিল ৬শ” থেকে সাড়ে ৭শ” টাকা । এখন একজন শ্রমিকের মজুরি ১১“শ” থেকে ১২শ” টাকা। এরপরও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। শ্রমিকের জন্য কৃষকরা ভোররাত থেকেই বটতলা এসে বসে থাকে শ্রমিকের আশায়।কোনো কোনো কৃষক কটিয়াদী উপজেলার করগাওঁ ইউনিয়নের শ্রমিকের হাটে গিয়ে বসে থাকে শ্রমিকের আশায়। কেউ কেউ বসে থাকে নিকলীর বাসষ্টেন্ডে কোনো যায়গার থেকে বাস যোগে কৃষি শ্রমিক আসলেই কৃষকরা নিয়ে যাচ্ছেন।

নিকলী সদর ইউনিয়নের নগর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, আমি পাঁচ একর জমিতে হাইব্রিড বোরো ধান করেছি।প্রতি একরে ধান হয়েছে ৬০ মণ করে। মোট ধান পেয়েছি ৩০০মণ। ওই জমি আজ মঙ্গলবার ১১শত টাকা করে ৫০জন শ্রমিক দিয়ে ধান কাটিয়েছি। একজন শ্রমিক সারা দিনে আড়াইমণ ধান কাটতে পারেন। ৫০জন শ্রমিকের মজুরি দিতে হয়েছে ৫৫ হাজার টাকা। ওই ধান ফড়িয়াদের নিকট বিক্রি করেছি ৭৫০ টাকা মণ দরে। সরকার যদি ধানের দাম ঠিক রাখে তাহলে কিছুটা লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। না হলে আমাদের পথে বসা ছাড়া কোনো গতি নাই।

নিকলীতে বোরো ধান কাটার ধুম, বেশি টাকা দিয়েও শ্রমিক মিলছে না

সিংপুর গ্রামের কৃষক মোঃ আলতু মিয়া বলেন, আমার অনেকগুলা ক্ষেতের ধান পাইখা গেছেগা। কিন্তু কামলা (শ্রমিক) না পাওয়ায় ধান কাটতে পারতাছি না। গ্রামের কামলার কাছে গেলে কয় আমাদের দলে লোক কম তারা ধান কাটত না। আবার বাহির থাইকাও এ বছর কোনো কামলা আইছে না। এখন কীভাবে ধান কাটতাম বুঝতে পারতাছি না। কথা হয় উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের গ্রামের কৃষক হোসেন মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি ৬০-৭০ কের (২৮ শতকে ১ কের) জমি করছি। এর মধ্যে ২০-২৫ কের জমিতে কারেন্ট পোকায় ধরছে। এ ছাড়া বীজও বালা পড়ছে না। যে কারণে জমিত ধান কম হইছে।

তিনি বলেন, ‘যাঅই ধান হইছে- ইতা ঘরে তুলা নিয়াও এখন দুশ্চিন্তায় আছি। শ্রমিকসংকটের কারণে ধান কাটতে পারতেছি না। এ-বছর বাহির থেকে শ্রমিক আইছে না, এলাকার শ্রমিকরাও  ধান কাটতে চায় না।

উপজেলার জুরুইতলা ইউনিয়নের কৃষক মোতালেব মিয়া বলেন, আমি অত বড় কৃষক না। ১৫-২০ কের ক্ষেত করছি। এখন কামলা না থাকায় এক কের ক্ষেতের ধানও কাটতে পারতাছি না। রাতে ঘুম আয় না, কখন ঝড়-তোফান আয়, শিলা বৃষ্টি আয়। পুলাপুরি (ছেলে-মেয়ে) নিয়া নিজে নিজেই কিছু কাটতাছি। উপজেলার ভবাণীপুর গ্রামের কৃষক বুধু বর্মন বলেন, জমি করতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। আমাদের সারা বছরের পরিশ্রমের একমাত্র সম্ভল এই ধান। কিন্তু ধানের দাম যদি ঠিক না তাকে তহলে আমরা কীভাবে বাচমু। গেল কয়েক বছর ধরে বোরো চাষ করে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে আমরা যেন ধানের ন্যায্য দাম পাই। কৃষকদের কথা মাথায় রেখে যেন ধানের দামটা ঠিক রাখা হয়।

উপজেলার বানিয়াহটি গ্রামের কৃষক শুক্কুর মাহমুদ বলেন, এ বছর তিনি প্রায় ছয় একর জমিতে ব্রি ২৯ জাতের ধানের চাষ করেছেন। শ্রমিক না পাওয়ায় এখনো একচিলতে জমির ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছি না। ধান জমিতে পেকে রয়েছে কৃষি শ্রমিকের সংকট ডাবল টাকা দিয়ে জমি কেটে কী লাভ হবে বুঝতে পারতেছি না। বর্তমানে নিকলীতে ফড়িয়ারা আটশত টাকা মণ দরে ধান কিনছে। অথচ জমিতে আমাদের প্রতিমণ ধানের উৎপাদন খরচ হয়েছে নয়শত টাকা। জমি করে আমাদের লাভ কি। এখনো নিকলীতে সরকারিভাবে ধান ক্রয় শুরু হয়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে নিকলী উপজেলায় ৩৬হাজার ৩৭৫ একর জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষ হয়েছে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের হাওরে প্রায় ৩০% বোরো ধান কাটা হয়েছে। এসব এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে প্রতি একরে ৫০থেকে ৬০মণ করে ধানের ফলন হয়েছে। এ এলাকায় ব্রি ২৯ জাতের ধানের চাষ বেশি হয়।

 

তবে শ্রমিকের মজুরি বেশি থাকায় কৃষকরা চিশ্চিত। সরকারি ভাবে ধান ক্রয় শুরু হলে ধানের দামও বাড়বে। এ ছাড়া গেল বছর এবং চলতি বছর মিলিয়ে জেলায় ৪৫ টি হারভেস্টার মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। যেগুলো পুরোদমে ধান কাটার কাজ করছে। কিন্ত চাহিদা রয়েছে ১২৫টি হারভেস্টার মেশিনের। তা হলে শ্রমিক সংকট হতো না। নিকলী আবহাওয়া সিনিয়র অবজারশেন কর্মকর্তা আক্তার ফারুক জানান, আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বড় ধরণের ঝড়-বৃষ্টি হবে না। তবে মাঝে-মাঝে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com