ঝড়- বৃষ্টি উপেক্ষা করেই কিশোরগঞ্জের নিকলী বেড়িবাঁধ হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় করেছেন পর্যটকরা।
বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) দুপুর থেকে নিকলী বেড়িবাঁধ হাওর এলাকায় পর্যটকদের ভিড় করতে দেখা গেছে।
পর্যটকদের ভিড় ঘিরে পর্যটনশিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও জীবিকা নির্বাহকারী লোকজনেরা কিছুটা হলেও খুশি। কারণ এবার বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও হাওরে পানি কম। আর তাই তেমন পর্যটক আসেনি। কিন্তু এখন পানি কিছু বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর -দুরান্ত থেকেও কিছু পর্যটক আসতে শুরু করেছে।
জানা গেছে, ২০০০ সালের দিকে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা সদরকে বর্ষার প্রচন্ড ঢেউয়ের কবল থেকে রক্ষায় সরকার পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বেড়িবাঁধ তৈরি করে। একই সময় ভাঙনপ্রবণ উপজেলার ছাতিরচর ও ঘোড়াদীঘায় গ্রাম রক্ষায় রোপণ করা হয় হাজারো করচগাছ। এ দৃষ্টিনন্দন দীর্ঘ বেড়িবাঁধ ভাসমান পানিসহিষ্ণু করচবন এবং সাগরের মতো বর্ষার দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি সি বিচর মতো রূপ ধারণ করে। আর এ কারণেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পর্যটকরা দল বেঁধে শত শত মোটরবাইক এবং প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসে করে পরিবার-পরিজন নিয়ে বর্ষার এ মৌসুমে ছুটে আসেন এখানে।
এসব পর্যটকরা টায়ার-টিউব নিয়ে জলকেলি, নৌকা ও স্প্রিডবোটে দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশিতে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি বিস্তৃীর্ণ হাওরের বুকে ভাসমান করচবনের শীতল ছায়ায় প্রিয়জনদের নিয়ে মেতে ওঠেন। কোনো কোনো পর্যটক দল নৌকায় ঘুরে ঘুরে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করে।
পর্যটক নিয়ে হাওরে ঘুরতে যাওয়া ট্রলারের মালিক বিল্লাল মিয়া বলেন, আমারা তো বর্ষার সময় পর্যটক আসার অপেক্ষায় নৌকাগুলো সাজিয়ে থাকি। অনেকে নতুন নৌকা ও ট্রলার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা খরচ করে। এ মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে পর্যটকরা আসেন। কিন্তু এবার হাওরে সময় মতো পানি না আসায় আমরা লসে রয়েছি। ঈদ উপলক্ষে কিছু পর্যটক আসছে। পানিও বাড়তেছে। আশা করছি পানি বাড়ার সাথে সাথে পর্যটকরাও হাওরে আসবে।
নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়ার আহমেদ তুলিপ বলেন, এখন বর্ষার ভরা মৌসুম। কিন্তু হাওরে পানি কম থাকায় পর্যটকরাও কম আসছে। আস্তে আস্তে নিকলী হাওর পর্যটন এলাকায় পর্যটক আসতে শুরু করেছে। আমি আশাবাদী দ্রুত সময়ের মধ্যেই পর্যটকদের কোলাহলে মুখরিত হয়ে ওঠবে।
তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের বহনকারী নৌকার ভাড়া আগের বছরের নির্ধারিত ভাড়ায় চলছে। নতুন বছরে আবার নৌকা মালিকদের নিয়ে বসে ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। তবে এখনো ভাড়া কমই রয়েছে।
নিকলী থানার ওসি সারোয়ার জাহান জানান, পর্যটকদের সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশকে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিলা পারভিন বলেন, বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা পর্যটকদের সর্তক করা হচ্ছে ,যারা সাঁতার না জানে তারা যেন লাইফ জ্যাকেট পরে গোসল করে।