আল্টিমেটামের পর পাকিস্তান ছাড়তে শুরু করেছে সেদেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী আফগান শরণার্থীরা। এরই মধ্যে ৩০টি পরিবারের এক হাজারের বেশি শরণার্থী সীমান্ত পাড়ি দিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে ফিরে গেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) পাকিস্তানের সীমান্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৩০টি পরিবারের এক হাজারের বেশি শরণার্থী তাদের দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। শরণার্থীদের জন্য তোরখাম সীমান্তে একটি পার্কিং এলাকা বরাদ্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া তাদের গ্রহণ এবং রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আফগানিস্তানের লাঘমান প্রদেশের বাসিন্দা বারয়ালে হাসরাত বলেছেন, ৯ সদস্যের পরিবার নিয়ে ২০ বছর ধরে তিনি নওশেরাতে বসবাস করেন। তিনি আফগান নাগরিক। তিনি স্বেচ্ছায় আফগানিস্তানে ফিরে যাচ্ছেন। কেননা তাদের দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পাকিস্তানের তুলনায় ভালো।
.jpg)
গত মঙ্গলবার পাকিস্তানে বসবাসরত ১৭ লাখের বেশি আফগান শরণার্থীকে ১ নভেম্বরের মধ্যে দেশ ছাড়ার আল্টিমেটাম দেয় দেশটির সরকার। ১ নভেম্বরের পর থেকে অভিযানে নামবে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। সে সময় যদি কোনো অবৈধ শরণার্থী ধরা পড়ে, তাহলে তাদের জোর করে নিজেদের দেশে পাঠানো হবে বলে সতর্ক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি। পাকিস্তান সরকারের এমন শক্ত অবস্থানের মুখে গ্রেপ্তার বা আইনি জটিলতা এড়াতে আগেই দেশটি ছাড়া শুরু করেছেন এসব আফগান শরণার্থী।
এর আগে গত মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী আনওয়ার উল হক কাকার এবং উচ্চপর্যায়ের সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানে বসবাস করা ১৭ লক্ষাধিক আফগান অভিবাসীকে দেশ ছাড়ার আল্টিমেটাম দেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের কাছে যে কোনো দেশ বা তার নীতির চাইতে পাকিস্তানের নাগরিকদের নিরাপত্তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিজেদের নাগরিকদের জান-মালের নিরাপত্তা রক্ষার্থে এই প্রথম ইসলামাবাদ এমন আল্টিমেটাম দিচ্ছে।
সরফরাজ বুগতি বলেন, আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে সব অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে নিজ দেশে ফেরত যেতে হবে। ১ নভেম্বরের পর থেকে অভিযানে নামবে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। সে সময় যদি কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশাকারী ধরা পড়েন, তাহলে তাদের জোর করে নিজেদের দেশে পাঠানো হবে।
.jpg)
সরফরাজ বুগতি সরাসরি কোনো নাম উল্লেখ না করলেও ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে তিনি যে নিবন্ধনহীন আফগান শরণার্থীদের বুঝিয়েছেন, তা স্পষ্ট। কারণ পাকিস্তানে আফগানিস্তান ব্যতীত অন্য কোনো দেশের লোকজন শরণার্থী হিসেবে বাস করেন না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যেসব আফগান শরণার্থী সাধারণ পাকিস্তানিদের সঙ্গে মিশে যাওয়ার জন্য ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাঠে নামবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
হামলা বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ ইসলামাবাদ মঙ্গলবার ‘অবৈধ’ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ক্র্যাকডাউন ঘোষণা করেছে। তবে তালেবান সরকার পাকিস্তানকে তাদের ‘অগ্রহণযোগ্য’ পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। আফগানিস্তানের শাসকরা বারবার পাকিস্তানে হামলাকারী জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী- বর্তমানে পাকিস্তানের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে নিবন্ধিত শরণার্থীর সংখ্যা ৮ লাখ ৮০ হাজার। অনিবন্ধিত শরণার্থী রয়েছেন ১৭ লাখের বেশি। যাদের কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। এই শরণার্থীদেরই ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তান।
কাবুলে তালেবান প্রশাসনের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, আফগান শরণার্থীরা পাকিস্তানের নিরাপত্তা সমস্যার সঙ্গে জড়িত নয়। যতদিন তারা স্বেচ্ছায় পাকিস্তান ত্যাগ করছে ততদিন সেই দেশের উচিত তাদের আশ্রয় দেওয়া।
পাকিস্তানের সীমান্তের কাছে বেলুচিস্তান প্রদেশটি প্রায়ই তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বা পাকিস্তানি তালেবান এবং ইসলামিক স্টেট জঙ্গি গোষ্ঠীসহ সশস্ত্র বিদ্রোহিদের হামলার শিকার হয়।