গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ৫ হাজার রকেট ছুড়েছে ফিলিস্তিনের ইসলামপন্থি রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস। নজিরবিহীন হামলায় অন্তত ২২ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৫৪৫ জন। এদিকে হামাসের হামলার জবাবে এবার গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘোষণা করে বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল।
শনিবার (৭ অক্টোবর) হামলার পর এক ভিডিও বার্তায় কথা বলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, শনিবার ভোরে হামাসের আকস্মিক হামলার পর দেশ যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। ইসরায়েলের নাগরিকরা, আমরা যুদ্ধে আছি। কোনো অপারেশনে নয়, রাউন্ডে নয়, যুদ্ধে।
দেশটির সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি প্রায় ২৫০০ রকেট ছুঁড়েছে ইসরায়েলে। এছাড়া সমুদ্র, স্থলপথ এবং প্যারাগ্লাইড করে অস্ত্রধারীরা ইসরায়েলে ঢুকে পড়েছে।
ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের বেশ কিছু অস্ত্রধারী দক্ষিণ ইসরায়েলে ঢুকে পড়েছে। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলে হাজার হাজার রকেট নিক্ষেপের পর এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
হামলার দায় স্বীকার করে হামাসের নেতা মোহাম্মেদ দেইফ বলেন, আমরা শনিবার ইসরাইলের উদ্দেশে পাঁচ হাজার রকেট ছুড়েছি। এর মধ্য দিয়ে আমরা অপারেশন আল-আকসা স্টর্ম শুরু করে দিয়েছি।
দেইফ বলেন, যথেষ্ট হয়েছে। ইসরাইলকে আমরা উপযুক্ত জবাব দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেশপ্রেমিক সব ফিলিস্তিনিকে এই যুদ্ধে যোগ দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, দখলদার সৈন্য এবং সেটলাররা যে আতঙ্ক তৈরি করেছে সেখান থেকে ফিলিস্তিনের জনগণের অধিকার রয়েছে নিজেদের রক্ষা করার।
রকেট হামলার পর ইসরায়েল হাজার হাজার সংরক্ষিত সেনাদের তলব করেছে। ইসরায়েলের গণমাধ্যম বলছেন, দক্ষিণ ইসরায়েলের বিভিন্ন জায়গায় ফিলিস্তিনী বন্দুকধারীদের লড়াই হচ্ছে।
হামাস দাবি করেছে তারা অন্তত ৩৫ জন ইসরায়েলিকে বন্দি করেছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র কোন মন্তব্য করেনি।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, তাদের উপর আক্রমণ করে হামাস অনেক বড় ভুল করেছে। প্রতিটি জায়গায় ইসরায়েলি সৈন্যরা তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এবং ইসরায়েল রাষ্ট্র এতে জয়ী হবে। বলেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় ফিলিস্তিনি অস্ত্রধারীরা ইসরায়েলের শহর সদেরতের রাস্তায় পথচারীকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করছে।
ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) জানিয়েছে তারা এখন যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে এবং কয়েক ডজন যুদ্ধ বিমান গাজায় হামাসের অবস্থান লক্ষ্য করে আকাশ পথে হামলা চালাতে যাচ্ছে।
ইহুদীদের বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান সুকত শেষ হবার পরপরই শনিবার ভোর থেকে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা অঞ্চল থেকে রকেট হামলা শুরু হয়।
বিবিসি সংবাদদাতা ফ্রাঙ্ক গার্ডনার বলেছেন, এটা ইসরায়েলি গোয়েন্দা ব্যর্থতা। ইসরায়েলের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় এবং দক্ষ। তারা দেশের ভেতরে এবং বাইরে কাজ করে। ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গ্রুপগুলোর ভেতরেই ইসরায়েলি গোয়েন্দারা রয়েছে। এছাড়া সশস্ত্র গ্রুপগুলোর সাথে মিশে আছে। এছাড়া লেবানন, সিরিয়া এবং অন্যান্য জায়গায়ও ইসরায়েলি গোয়েন্দারা সক্রিয়। অতীতে বিভিন্ন সময় সুনির্দিষ্ট ড্রোন হামালা এবং মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং-এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনী সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতাদের হত্যা করেছিল ইসরায়েল। এটা সম্ভব হয়েছিল গোয়েন্দা তথ্যের কারণে। কিন্তু এবার সেটা হয়নি।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের হামাস অত্যন্ত গোপন পরিকল্পনার মাধ্যমে এই সমন্বিত আক্রমণ করে। এখন যে প্রশ্ন উঠবে সেটি হচ্ছে – এ ধরণের একটি হামলার ব্যাপারে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা কেন আগে থেকে সতর্ক করতে পারেনি।