কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার বিভিন্ন হাওরে শীতকালীন সবজি হিসেবে মিষ্টি কুমড়ার এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। বেশি দাম পেয়ে কৃষকরা খুশি।
মিষ্টি কুমড়ায় তুলনামূলক খরচ কম। ফলন ভালো এবং লাভও বেশি। পুষ্টিগুণে ভরপুর সবজিগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া খেলে শরীরের পাশাপাশি ভালো থাকে ত্বক ও চুল। নিয়মিত খেলে দূর হয় পেটের নানাবিধ সমস্যাও। চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্য মতে, মিষ্টি কুমড়াতে ভিটামিন এ ও সি থাকে। এ ছাড়াও ফাইবার ও পটাসিয়ামসহ নানাবিধ উপকরণে সমৃদ্ধ মিষ্টি কুমড়া। যা খেলে বাড়ে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও। এই সহজলভ্য সবজিটি পরিপুষ্ট অবস্থায় তোলা হলে দীর্ঘদিন ঘরেও রাখা যায়। উপকার জেনে ঝুঁকছে মানুষ এই সহজলভ্য সবজির দিকে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে এই সবজি।
সরেজমিন ঘুরে কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, কৃষকেরা যে মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস বিক্রি করেন সেটা বিভিন্ন শহরে গিয়ে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা হয়ে যায়। তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে চলতি বছরে ভালো দাম পেয়ে তারা বেশি খুশি। কৃষি অফিসের সঠিক তদারকি, সরকারি প্রণোদনা এবং ভালো জাতের বীজের ব্যবস্থা করা হলে আগামীতে মিষ্টি কুমড়া চাষে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে বলে মতামত প্রকাশ করে স্থানীয় কৃষি অফিস।
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি হাওরে চাষিরা নিয়মিত মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়ে থাকে। তবে চলতি বছরে তুলনামূলক বেশি মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করেছেন বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা। তাছাড়া নিকলীর সদরের বেশ কিছু এলাকায়, ছাতিরচর ইউনিয়নের বেশ কিছু হাওরে কমবেশি এই মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হচ্ছে।
কৃষকরা জানান, মিষ্টি কুমড়া চাষে এতে পানির তেমন একটা বেশি দরকার পড়ে না। সার, নিরানি খরচও কম লাগে। গবাদি পশুর বিষ্টাকেও জৈব সারের কাজে লাগালে ভালো ফলন হয় বলে জানান। বিশেষ করে মরিচ ক্ষেতের অকেজো আইলেও এর আবাদ করা যায়। পরিত্যক্ত মাঠে এর আবাদ করা যায়। আইলের ওপরেও এর আবাদ অনেক ভালো হয়।
নিকলীর ঘোড়াদীঘা গ্রামের শুক্কুর মিয়া তার জমি থেকে মিষ্টি কুমড়া উত্তোলনের সময়ে বলেন, এখন থেকে আমি নিয়মিত মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করব। এতে লাভ বেশি খরচ কম। বৃষ্টি বাদলের কোনো সমস্যা নেই। কয়েকবার তোলা যায়। ২৫ শতাংশ জমিতে এই বছর প্রথম মিষ্টি কুমড়া করে লাভের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি মরিচ ক্ষেতের আইলে এর ভালো চাষ হয় বলেও জানান।
নিকলীর বড় হাওরের কৃষক রফিকুল বলেন, বোরো ধানের জমির আইলে ভালো জাতের মিষ্টি কুমড়া লাগালে ভালো ফলন পাওয়া যায়। প্রতি বছরই ধানের জমির পাশের আইলে ধান চাষ করি।
উপজেলার সিংপুর হাটে গিয়ে দেখা যায় মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করেছেন বিক্রেতারা। ক্রেতাদেরও খুব ভিড়। ক্রেতাদের ভাষ্য, শীতকালীন প্রচুর শাকসবজির আমদানি হলেও সব কিছুর দাম বাড়তি।
নিকলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, নিকলীতে গত অর্থবছরের তুলনায় মিষ্টি কুমড়ার আবাদ ১৫ একর বেড়েছে। চলতি মৌসুমে সরকারি হিসাবে ১২৫ একর জমিতে আবাদ হয়েছে। তবে আবাদ আরো বেশি হতে পারে। কৃষকরা উপযুক্ত মূল্য পেলে নানাবিধ উপকারী এই সবজি চাষে বেশি আগ্রহী হবেন বলেও তিনি ধারণা করেন। কৃষকরা মূলত বাণিজ্যমুখী। যেদিকে বেশি লাভ পায় সেদিকেই মনোযোগী হয়।