এক সময় সারা দেশের বিশভাগের এক ভাগ গম উৎপাদন হতো কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলাতে। উপজেলার চাহিদা পূরণ করে গম রপ্তানি হতো দেশের অন্যান্য জেলাতেও। কিন্তু সেসবই অতীত। গত কয়েক বছরে নিকলীর হাওরে ধীরে ধীরে কমেছে গমচাষ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যমতে গত ১০ বছরের গমচাষের হিসাব বিশ্লেষণ করলে অনুমান করা যায় গমচাষ বিলুপ্ত হতে বসেছে নিকলীতে। হিসাব বলছে, ২০১৩-১৪ চাষ মৌসুমে জেলায় গমচাষ হয়েছিল ৮ হাজার ২০ একর জমিতে, ২০১৪-১৫ চাষ মৌসুমে ৬ হাজার একর, সর্বশেষ ২০২৩-২৪ চাষ মৌসুমে তা একেবারে কমে এ বছর গমচাষ হয়েছে ৪৫ একর জমিতে।
কেন গম চাষে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা, এমন প্রশ্ন নিয়ে গমচাষে বিমুখ কয়েজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলেছে ইত্তেফাকের প্রতিনিধি, সিংপুর গ্রামের আলতু মিয়া, সুনামউদ্দিন, আশরাফুল , কাবিল সর্দার ও বাবুল মিয়া জানান, গমের চেয়ে ভুট্টা ও আলু বেশি উৎপাদন হয়। তাই তারা গমের পরিবর্তে আলু ও ভুট্টা চাষে ঝুঁকেছেন। এছাড়াও বীজ সংকট, বীজ পেতে ভোগান্তি, বীজ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে চড়া দাম নিয়ে কৃষকদের অখুশিসহ নানা সমস্যা উঠে আসে কৃষকদের মুখ থেকে।
কৃষক কাবিল সর্দার বলেন, যেসব জমি আগে গমে ভরে থাকতো সেসব জমিতে এখন ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসল ফলাচ্ছে কৃষকরা।
এদিকে গমের চাষ ধীরে ধীরে কমে যাওয়ায় খাদ্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির শঙ্কা দেখছেন অনেকেই। তারা বলছেন, এভাবে গমের চাষ কমে গেলে দেশকে আমদানি নির্ভর হয়ে যেতে হবে। ফলে খাদ্যপণ্যের ব্যাপক দাম বাড়বে। ভুট্টা থেকে বেশিরভাগ গবাদি পশুর খাদ্য উৎপাদন হয়, আর গম থেকে মানুষের খাদ্য উৎপাদন হয়। তাই গম চাষে চাষিদের প্রণোদনাসহ গমচাষ বৃদ্ধিতে নানাবিধ উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাখাওয়াত বলেন, গমের চাষ কমেছে নিকলীতে। তবে এসব জমিতে এখন ভুট্টার ও আলু চাষ হচ্ছে। জমি ফাঁকা নেই। ভুট্রার পর কৃষকরা পাট ও বিভিন্ন সবজি আবাদ করবেন। কৃষকরা জমি ফাঁকা রাখছেন না। কৃষকরা যে আবাদই করুক আমাদের সহযোগিতা থাকবে। নিকলীতে গম চাষের প্রতি কৃষকের আগ্রহ কমে গেছে, কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না।