নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাদেরই মনোনীত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ অর্থোপেডিক হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, ড. ইউনূস তো আমাদেরই… ছাত্রদের, আমাদের মনোনীত ব্যক্তি যাকে আমরা গোটা জাতির পক্ষ থেকে দায়িত্ব দিয়েছি যে এই ইন্টেরিম গভর্মেন্টের দায়িত্ব তিনি পালন করবেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই গোটা সমস্যার মূল হিসেবে ‘গণতন্ত্রের অভাব’কে উল্লেখ করে সেই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রধান কাজ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। যত দ্রুত তিনি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারবেন ততো তিনি সাফল্য অর্জন করবেন… অতি দ্রুত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সরকারে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনীতিকে সচল রাখার উদ্যোগের কথাও বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, আন্দোলনে যারা শরিক হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অসংখ্য ছাত্র ও নাগরিককে আমরা হারিয়েছি। শুধু কি তাই? হাজার হাজার আহত হয়েছে। আজ আমরা হাসপাতালে এসেছি যারা আহত হয়েছেন তাদেরকে দেখার জন্য। এই হাসপাতালে আমরা একটা তালিকা পেয়েছি সেখানে দেখলাম ৮ তারিখ থেকে পাঁচ তারিখ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ এর বেশি গুলিবিদ্ধ হয়ে ভর্তি হয়েছেন। শুধুমাত্র এই হাসপাতালই নয়, অসংখ্য হাসপাতালেই এরকম চিত্রই দেখা যাবে।
তিনি বলেন, আমি হাসপাতালে যে দৃশ্য দেখেছি সেটি দেখার মত নয়। ছোট ছোট বাচ্চারা, একেবারে শিশু তারাও গুলিবিদ্ধ হয়েছে। শ্রমিকরা এখানে ভর্তি হয়েছে। আন্দোলন চলাকালীন এই ইনজুরি গুলো হয়েছে। এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর ভাষা খুঁজে পাই না।
আল্লাহতালার কাছে শুকরিয়া আদায় করে তিনি বলেন, যে ভয়াবহ দানব সরকার আমাদের উপর চেপে বসেছিল, তাদের পতন হয়েছে আমাদের ছাত্রদের আন্দোলনসহ রাজনৈতিক দল, নাগরিকদের মাধ্যমে। তাদের পতন হয়েছে, তারা পালিয়েছে।
এ সময় ছাত্র আন্দোলনের সবাইকে স্যালুট ও অভিবাদন জানান ফখরুল। আহত সকলেই সেরে উঠবেন এমন আশাবাদ করে মির্জা ফখরুল বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে আমরা কথা বলেছি। সহযোগিতার কথা বলেছি।
ছাত্রদের স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি অভিভূত হয়েছি। ছাত্ররা দেশের কল্যাণে মানুষের জন্য কিভাবে কাজ করছেন। গণতন্ত্র ফিরে আনার আন্দোলনে তারা অগ্রণী সেনার ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করছেন।