পেটে তীব্র বেথা নিয়ে হাসপাতালে আসেন এক নারী। যথারীতি পরিক্ষা-নীরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, পেটে টিউমার ধরা পড়েছে, অবস্থা জটিল, অপারেশন জরুরি। চিকিৎসকের এমন কথা শুনে তাৎক্ষণিক নগদ ৫০হাজার টাকায় পরদিন অপারেশনের তারিখ ধার্য করে চুক্তি করেন রোগীর স্বজনরা। কথা অনুযায়ী পরদিন সময়মত রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলে পেটে কেটে অস্ত্রোপচার শুরু করেন চিকিৎসক। কিন্তু মাঝপথে অপারগতা প্রকাশ করেন রোগীকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ অবস্থায় চরম বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগী নারী। এদিকে বিষয়টি তেমন কিছুই বলে দাবি করছেন অভিযুক্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী রোগীর পরবর্তী চিকিৎসা সেবায় প্রয়োজনীয় অর্থপ্রদানে স্বজনদের আশ্বাস দেন অভিযুক্ত চিকিৎসক। পরে একপ্রকার চাপের মুখেই লিখিত চুক্তি করতে বাধ্য হয় অভিযুক্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গত ১৭এপ্রিল রাতে চিকিৎসার নামে কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের মেডিল্যাব জেনারেল হাসপাতালে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিল্পী বেগম (৩৮) প্রবাসী মাসুম মিয়ার স্ত্রী এবং তিনি নরসিংদীর পটিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
গত ১৬এপ্রিল সকালে পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে ভৈরব শহরের নিউটাউন মোড়ের এই হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, রোগীর পেটে টিউমার রয়েছে এবং অবস্থা জটিল হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করতে হবে। পরদিন ১৭ এপ্রিল রাতে ৫০হাজার টাকা চুক্তিতে অপারেশনের জন্য রোগীকে নেয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। কিন্তু অপারেশন শুরু হওয়ার পর চিকিৎসক অপারেশন সম্পন্ন করতে অপারগতা প্রকাশ করে পুনরায় পেট সেলাই করে রোগীকে বেডে ফেরত পাঠান।
রোগীর মেয়ে তানজিনা বলেন, অপারেশন থিয়েটার থেকে বেরিয়ে ডাক্তাররা জানান, টিউমার অন্যান্য অঙ্গের সঙ্গে পেঁচিয়ে আছে। তাই তারা অপারেশন না করে পেট সেলাই করে দিয়েছেন। যদি অপারেশন সম্পন্ন না করা হয়, তাহলে পেট কাটলো কেন?”
রোগীর মা আলিয়া খাতুন বলেন, “আমরা চিকিৎসার জন্য ভরসা করে এখানে এনেছিলাম। অপারেশন করতে না পারলেও রোগীর পেট কেন কাটা হলো এই প্রশ্নের জবাব এখনও আমরা পাইনি। আমাদের চাপে পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করে ঢাকায় পরবর্তী চিকিৎসায় সহযোগিতা করবে মর্মে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ।”
বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য চাইলে, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. কে এন এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এটি তেমন কোনো বিষয় না, স্টেম্যান্ট দেওয়ার কিছু নেই। আপনাদের যা ইচ্ছা তা লিখতে পারেন”- রোগীকে এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে বলা হয়েছে, আমরা প্রয়োজনীয় সহায়তা করবো।” গোপন ক্যামেরায় ধারনকৃত বক্তব্যে তিনি আরো জানান, “অপারেশনের সময় দেখা যায়, টিউমার পেটের ভিতরের অন্যান্য অঙ্গের সঙ্গে পেঁচিয়ে আছে। অপারেশন করলে জীবন ঝুঁকি ছিল। তাই পেট কেটে দেখে অপারেশন স্থগিত করা হয়। তবে অপারেশন পূর্ববতী পরীক্ষা-নীরিক্ষায় কেন অপারেশনের জটিলতা বুঝা যায়নি, এমন প্রশ্নের কোনো সদোত্তর দিতে পারেন নি তিনি।
ভুক্তভোগী নারী শিল্পী বেগম বলেন, আমার মত আর কোনো নারীকে যেন এমন দুর্ভোগ না পোহাতে হয়, আমি এ ঘটনার সুষ্ট বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কিশোর কুমার ধর বলেন, “বিষয়টি আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে অপারেশন না করে পেট সেলাই করে দেওয়ার ঘটনা চিকিৎসা নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন। দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।
এবিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফুহাদ রুহানী সোমবার সাড়ে তিনটায় মুঠোফোনে জানান, এ সংক্রান্তে কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।