মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
দেশে চালু ১৯ কোটি ১০ লাখ সিম, জানালেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু নিউ মেক্সিকোর নাম বদলে ‘নিউ আমেরিকা’ চান ট্রাম্প, নাকচ গভর্নরের অটোরিকশা চার্জে বছরে রাজস্ব ক্ষতি ৪ হাজার কোটি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাকুন্দিয়ার মিলনের মৃত্যু তাড়াইলের ১২ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় তাড়াইল হাজী গোলাম হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত  টানা তিন হার বাংলাদেশের, এবার বড় লজ্জা দিল ভারত হানাহানি এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ‘মৃত্যুর আগে ছেলেকে একবার দেখে যেতে চাই’

হোসেনপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২৫ ঘর এখন পরিত্যক্ত, সন্ধ্যা হলেই মাদকসেবীদের আড্ডা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল, হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ
  • আপডেট সময় শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৯০ বার পড়া হয়েছে
হোসেনপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২৫ ঘর এখন পরিত্যক্ত, সন্ধ্যা হলেই মাদকসেবীদের আড্ডা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চর জিনারীতে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের গুচ্ছ গ্রাম এখন সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত। প্রায় ৫০ শতক খাসজমিতে নির্মিত ২৫টি আধাপাকা ঘরে একসময় দরিদ্র পরিবারগুলো বসবাস শুরু করলেও বর্তমানে সেখানে কোনো পরিবার নেই। ফলে সন্ধ্যা নামলেই এলাকাটি মাদকসেবী ও মাদককারবারিদের আড্ডায় পরিণত হয়।

  • ২০২১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে নির্মিত এই গুচ্ছ গ্রামের ঘরগুলো প্রথমে ১৪টি পরিবারে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রতিশ্রুত সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে সব পরিবারই স্থান ত্যাগ করে। বর্তমানে ঘরগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে, চারপাশে জমেছে ঝোপঝাড় আর শুকনো পাতার স্তূপ।

গুচ্ছ গ্রামের সভাপতি শ্যামলাল গুর জানান, প্রথমে সেখানে বসবাস শুরু করা পরিবারগুলোকে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ভোটার আইডি তৈরি করা হলেও বাস্তবে বছরে মাত্র দুবার ঈদ উপলক্ষে ৮ কেজি চাল ছাড়া আর কিছুই মেলেনি। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার আশ্বাসও রয়ে গেছে কাগজেই। ফলে নিরাপত্তাহীনতা ও যাতায়াত সমস্যার কারণে পরিবারগুলো একে একে সরে যায়।

বরাদ্দপ্রাপ্তদের তালিকায় ছিলেন—ছালাম, শহর আলী, রশিদ মিয়া, বশির উদ্দিন, সন্ধ্যারাণী, রোকেয়া, মাসুদ মিয়া, ফরজুল মিয়া, দিলু মিয়া, নয়ন মিয়া, হানিফা, রাহেলা, খুশি, জোৎসনা, জালাল মিয়া, হামিদ মিয়া, ছাহেলা, রাশিদ, মাহমুদা, হোসনা নাহার, গেসু মিয়া, কপিল মিয়া, শাহজাহান মিয়া ও আছিয়া আক্তার।

কিন্তু ২০২৩ সালের ২ জুন সেখানে বরাদ্দপ্রাপ্ত বশির উদ্দিনের ভাগিনা সুজন মিয়ার (২৮) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হলে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। এরপর প্রকল্পের সব পরিবার একে একে এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের বরাদ্দে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল বেশি। প্রকৃত ভূমিহীন অনেক পরিবার বঞ্চিত হয়েছে। আবার যারা বসবাস শুরু করেছিল তারাও মৌলিক সুবিধা না পেয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

  • জিনারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম রুহিদ বলেন, “যোগাযোগের কোনো রাস্তা না থাকায় বিকাল হলেই প্রকল্প এলাকা মাদককারবারিদের আড্ডায় পরিণত হয়। এখানে আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করাটাই ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।”

হোসেনপুর থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, পুলিশ অভিযোগ পেলে সেখানে যায়। তবে যাতায়াত সুবিধা না থাকায় অপরাধীরা আগেই পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “বরাদ্দপ্রাপ্তদের নামে সরকার ঘর ও জমি লিখে দিয়েছে। তাই প্রশাসন চাইলেই বরাদ্দ বাতিল করতে পারছে না। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com