কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চর জিনারীতে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের গুচ্ছ গ্রাম এখন সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত। প্রায় ৫০ শতক খাসজমিতে নির্মিত ২৫টি আধাপাকা ঘরে একসময় দরিদ্র পরিবারগুলো বসবাস শুরু করলেও বর্তমানে সেখানে কোনো পরিবার নেই। ফলে সন্ধ্যা নামলেই এলাকাটি মাদকসেবী ও মাদককারবারিদের আড্ডায় পরিণত হয়।
গুচ্ছ গ্রামের সভাপতি শ্যামলাল গুর জানান, প্রথমে সেখানে বসবাস শুরু করা পরিবারগুলোকে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ভোটার আইডি তৈরি করা হলেও বাস্তবে বছরে মাত্র দুবার ঈদ উপলক্ষে ৮ কেজি চাল ছাড়া আর কিছুই মেলেনি। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার আশ্বাসও রয়ে গেছে কাগজেই। ফলে নিরাপত্তাহীনতা ও যাতায়াত সমস্যার কারণে পরিবারগুলো একে একে সরে যায়।
বরাদ্দপ্রাপ্তদের তালিকায় ছিলেন—ছালাম, শহর আলী, রশিদ মিয়া, বশির উদ্দিন, সন্ধ্যারাণী, রোকেয়া, মাসুদ মিয়া, ফরজুল মিয়া, দিলু মিয়া, নয়ন মিয়া, হানিফা, রাহেলা, খুশি, জোৎসনা, জালাল মিয়া, হামিদ মিয়া, ছাহেলা, রাশিদ, মাহমুদা, হোসনা নাহার, গেসু মিয়া, কপিল মিয়া, শাহজাহান মিয়া ও আছিয়া আক্তার।
কিন্তু ২০২৩ সালের ২ জুন সেখানে বরাদ্দপ্রাপ্ত বশির উদ্দিনের ভাগিনা সুজন মিয়ার (২৮) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হলে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। এরপর প্রকল্পের সব পরিবার একে একে এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের বরাদ্দে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল বেশি। প্রকৃত ভূমিহীন অনেক পরিবার বঞ্চিত হয়েছে। আবার যারা বসবাস শুরু করেছিল তারাও মৌলিক সুবিধা না পেয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
হোসেনপুর থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, পুলিশ অভিযোগ পেলে সেখানে যায়। তবে যাতায়াত সুবিধা না থাকায় অপরাধীরা আগেই পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “বরাদ্দপ্রাপ্তদের নামে সরকার ঘর ও জমি লিখে দিয়েছে। তাই প্রশাসন চাইলেই বরাদ্দ বাতিল করতে পারছে না। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”