বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।

কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী–বাজিতপুর) আসনে ত্রিমুখী লড়াই, ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘু ভোট

দিলীপ কুমার সাহা
  • আপডেট সময় সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৩৬ বার পড়া হয়েছে
কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী–বাজিতপুর) আসনে ত্রিমুখী লড়াই, ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘু ভোট

কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী–বাজিতপুর) আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নির্বাচনী সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে। ১১ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীও ফুরফুরে মেজাজে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালও মাঠে সক্রিয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির প্রার্থী, দলটির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে। তবে একাধিক স্বতন্ত্র ও ছোট দলের প্রার্থী থাকায় ভোটের সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘু ভোট যে প্রার্থী টানতে পারবেন, তিনিই জয় নির্ধারণে এগিয়ে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৫৩ হাজার ৫৬৬ জন। এর মধ্যে বাজিতপুরে দুই লাখ ২৫ হাজার ৫০৮ জন এবং নিকলীতে এক লাখ ২৮ হাজার ৫৮ জন ভোটার রয়েছেন।

বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে সৈয়দ এহসানুল হুদাকে, যিনি বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন। এর আগে দলটি প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছিল বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি দলীয় প্রার্থী ছিলেন। এবার তিনি বিদ্রোহী হিসেবে ‘হাঁস’ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এ কারণে বিএনপি তাঁকে বহিষ্কার করেছে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা আমির মো. রমজান আলী। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নিবন্ধন না থাকায় দলের সভাপতি এ এইচ এম কাইয়ুম (হাসনাত কাইয়ুম) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হরিণ’ প্রতীক পেয়েছেন। তাঁদের বাড়িও বাজিতপুর উপজেলায়। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, রমজান আলী ও হাসনাত কাইয়ুম—দুজনই শক্তিশালী প্রার্থী। বিএনপির ভোট বিভক্ত হলে তারা সুবিধা নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে লড়াই চতুর্মুখী রূপও নিতে পারে।

নিকলী উপজেলার তিন বাসিন্দাও এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মাহবুবুল আলম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. দেলাওয়ার হোসাইন এবং মুসলিম লীগের মো. সাজ্জাদ হোসেন। স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জাপা প্রার্থী মাহবুবুল আলম কিছু আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোট পেতে পারেন। ইসলামী আন্দোলনের ‘হাতপাখা’ প্রতীকেও কিছু ভোট যেতে পারে।

নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু বলেন, আওয়ামী লীগের ভোটাররা কেন্দ্রে গেলে ফল নির্ধারণে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের পক্ষে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা কাজ করছেন। অন্যদিকে সৈয়দ এহসানুল হুদার পক্ষে রয়েছেন অতীতে পদবঞ্চিত একটি অংশ এবং নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ একটি অংশ। তৃণমূল পর্যায়েও ইকবালের সমর্থন রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে ধানের শীষের জন্য ‘হাঁস’ প্রতীক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতির সুযোগ নিতে তৎপর জামায়াত প্রার্থী রমজান আলী।

বিএনপি ঘরানার অনেকে মনে করেন, দল হিসেবে বিএনপি এখানে শক্তিশালী। ভোট ভাগ হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের একজনই বিজয়ী হবেন।

বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসনাত কাইয়ুমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “মানুষ বিএনপির বাইরে কিছু চিন্তা করে না। আমি দীর্ঘদিন এখানে নেতৃত্ব দিচ্ছি। ফলে বিএনপির ভোট আমার পক্ষেই আসবে। বাজিতপুরে আমার বাড়ি হলেও নিকলীতেও ব্যাপক যোগাযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘু ভোটারদের বিষয়েও আমি কৌশলগতভাবে কাজ করছি।”

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রমজান আলী বলেন, “আমি এক বছর ধরে দুই উপজেলায় গণসংযোগ করছি। প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে। আমাদের নিজস্ব ভোটব্যাংক আছে। মানুষ পরিবর্তন চায়।”

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com