মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
দেশে চালু ১৯ কোটি ১০ লাখ সিম, জানালেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু নিউ মেক্সিকোর নাম বদলে ‘নিউ আমেরিকা’ চান ট্রাম্প, নাকচ গভর্নরের অটোরিকশা চার্জে বছরে রাজস্ব ক্ষতি ৪ হাজার কোটি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাকুন্দিয়ার মিলনের মৃত্যু তাড়াইলের ১২ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় তাড়াইল হাজী গোলাম হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত  টানা তিন হার বাংলাদেশের, এবার বড় লজ্জা দিল ভারত হানাহানি এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ‘মৃত্যুর আগে ছেলেকে একবার দেখে যেতে চাই’

নিকলীতে আগাম বন্যার শঙ্কা, অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে বোরো জমি; দুশ্চিন্তায় কৃষক

দিলীপ কুমার সাহা, নিকলী, কিশোরগঞ্জ
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২০৪ বার পড়া হয়েছে
নিকলীতে আগাম বন্যার শঙ্কা, অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে বোরো জমি; দুশ্চিন্তায় কৃষক

ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মেঘালয় পাহাড়ে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার সতর্কবার্তা জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে নিকলীসহ হাওর এলাকার হাজারো বোরো ধান চাষি মাঠের ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম উদ্বেগে পড়েছেন।

এদিকে টানা তিন দিনের বৃষ্টিপাতে নিকলী উপজেলার বিস্তীর্ণ বোরো জমি ইতোমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক পাকা ধান শ্রমিকদের অর্ধেক ভাগে দিয়ে কাটতে শুরু করেছেন। আবার অনেকে শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ধান কাটতেই পারছেন না।

রোববার (২৬ এপ্রিল) ভোর থেকে শুরু হওয়া মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় ধান কাটা ও মাড়াই কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ধনু, ঘোড়াউত্র, সুরমা ও কুশিয়ারাসহ বিভিন্ন নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

সিংপুর হাওরের কৃষক রাব্বী মিয়া বলেন, “ধান কাটতে পারলেও বৃষ্টির কারণে শুকাতে পারছি না। নতুন করে বন্যার সতর্কবার্তায় আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি।”

গোড়াদীঘা হাওরের কৃষক আল আমিন মিয়া বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ড ধান দ্রুত কাটার পরামর্শ দিলেও টানা বৃষ্টির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।”

নিকলী বড় হাওরের কৃষক কামাল মিয়া জানান, বন্যার আশঙ্কার খবর শুনে অনেক কৃষক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে চইলাতি ও হাহাতি হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

সিংপুর হাওরের কৃষক ফায়জুল মিয়া বলেন, মানায়ের বিল, নয়া বান, নওয়া বিল, গুলডর বিল ও লাউটলা বিলের প্রায় ৩০০ একর বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

কাশিপুর গ্রামের কৃষক মজনু মিয়া জানান, এলাকার বড় বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, যে কোনো সময় ভেঙে হাওর তলিয়ে যেতে পারে।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ বলেন, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কৃষকদের সতর্ক করা হয়েছে।

নিকলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ জানান, ইতোমধ্যে হাওরের প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

নিকলী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার আক্তার ফারুক জানান, ২৬ এপ্রিল বিকাল থেকে ২৮ এপ্রিল দুপুর পর্যন্ত নিকলীতে ১৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা মজুমদার মুক্তি বলেন, ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই দ্রুত কাটার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অতিবৃষ্টিতে বড়াইল ও গোড়াদীঘা হাওরে ক্ষতি হয়েছে এবং স্থানীয়দের দেওয়া বাঁধ কেটে পানি নামানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ অবস্থায় হাওরের কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। দ্রুত ধান ঘরে তুলতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com