পূর্ব ইন্দোনেশিয়ায় আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ জনে। এছাড়া আটকা পড়েছেন বহু মানুষ।
রয়টার্স লিখেছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করার পর হতাহতের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার (বিএনপিবি) প্রধান সুহারিয়ান্তো সংবাদ সম্মেলনে জানান, স্থানীয় সময় বেলা ৩টা পর্যন্ত ৩৮ জন নিহত, ২ জন গুরুতর আহত এবং ১১ জন সামান্য আহত হওয়ার তথ্য মিলেছে।
অন্তত দুই হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছেন।
বিএনপিবি প্রধান জানান, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বেশ কিছু ভবনে এখনো বহু বাসিন্দা আটকে পড়ে আছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৫টার কিছু আগে ফ্লোরেস দ্বীপে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা তেনগারায় বাড়ির বাইরে গ্রামবাসী। ছবি:সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৫ কিলোমিটার গভীরে।
বিবিসি লিখেছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন এবং আফটারশকে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।
ঘটনার পরপরই দেশটির একাধিক উপকূলে ১ মিটারের (৩ ফুট) কম উচ্চতার ঢেউ নথিবদ্ধ করা হয়। সুনামির সতর্কতা জারি করা হলেও ভূমিকম্পের ঘণ্টা তিনেক পর তা প্রত্যাহার করা হয়।
ভূমিকম্পে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
ফ্লোরেস দ্বীপের মাউমেরে বন্দর থেকে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, টার্মিনাল ভবনের বড় বড় কংক্রিটের অংশ ভেঙে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ওপর পড়ছে।
এমনকি জাহাজে ওঠার সিঁড়ি ভেঙে পড়লে কয়েকজন সাগরে ছিটকে পড়েন।
কর্তৃপক্ষ সুনামির সতর্কতা জারি করার পর মোটরসাইকেলে করে অনেক মানুষকে উপকূল থেকে ভেতরের দিকে চলে যেতে দেখা যায়।
দুর্গম ও পাহাড়ি এই এলাকায় ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণ করতে সময় লাগবে।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা বিএনপিবি মানুষকে শান্ত থাকার এবং উপকূলীয় এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।