নওগাঁয় ১২ জন মাদ্রাসাছাত্রের এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার তথ্যকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন জেলা সিভিল সার্জন আমিনুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছর জেলায় নতুন করে কোনো এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়নি।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল দাবি করেন, নওগাঁয় ১২ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ওই ১২ জনই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং তারা আবাসিক হোস্টেলে থাকেন।
তবে সংসদ সদস্যের এ দাবির বিষয়ে নওগাঁর সিভিল সার্জন আমিনুল ইসলাম বলেন, জেলায় ১২ জন মাদ্রাসাছাত্র এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার তথ্য সঠিক নয়। বর্তমানে নওগাঁয় মাত্র দুজন এইচআইভি রোগী রয়েছেন। তারা দুজনই ২০২৫ সালে শনাক্ত হন এবং বর্তমানে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থাও ভালো বলে জানান তিনি।
সিভিল সার্জন আরও বলেন, ২০২৬ সালে নওগাঁয় নতুন করে কোনো এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়নি। গত জুলাই মাসে জেলার ১২ জন ব্যক্তি রক্ত পরীক্ষার পাশাপাশি এইচআইভি পরীক্ষা করিয়েছেন। পরীক্ষায় তাদের কারও শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়নি।
বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানাও একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত জুলাই মাসে উপজেলার ১২ জন ব্যক্তি রক্ত পরীক্ষার পাশাপাশি এইচআইভি পরীক্ষা করান। তাদের সবার পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘১২ জনের মধ্যে তিনজন এইচআইভি পজিটিভ হয়েছে।’ এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ ঘটনায় মাদ্রাসাছাত্রদের এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার বিষয়ে সংসদ সদস্যের বক্তব্যের সঙ্গে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যের মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, চলতি বছরে নওগাঁয় নতুন কোনো এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়নি এবং জুলাই মাসে পরীক্ষা করা ১২ জনের সবার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।