কিশোরগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, অপরাধ দমন এবং জেলার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এতে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।
মতবিনিময় সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নির্মূল, সন্ত্রাস দমন, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, নরসুন্দা নদীর অববাহিকার উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ এবং জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তব চিত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কটিয়াদী সার্কেল) মো. তোফাজ্জল হোসেন, কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান রতন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা সভাপতি অধ্যাপক রমজান আলী।
বক্তারা জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
এ সময় নরসুন্দা নদীর অববাহিকার পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষা, নদীকেন্দ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার এবং জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সম্ভাবনা ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়েও অংশগ্রহণকারীরা মতামত তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জেলার উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় জেলার প্রায় একশ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় কিশোরগঞ্জকে একটি নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব, সুশৃঙ্খল ও উন্নত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।