কিশোরগঞ্জে হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের গ্রাম আদালত সম্পর্কে অবহিত করা এবং তাদের সহজে বিচারিক সেবা পাওয়ার সুযোগ সম্পর্কে সচেতন করতে গ্রাম আদালত বিষয়ক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে কিশোরগঞ্জে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের জেলা কো-অর্ডিনেটর এবং টপ ইন সেন্টারের ইনচার্জ ও বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির প্রতিনিধিরা।
সভায় মোট ১৩ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় হিজড়া জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তিতে অল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে বিচারিক সেবা নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালতের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় বলা হয়, হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরা বিভিন্ন সময় নানা ধরনের বিরোধ ও সমস্যার সম্মুখীন হলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা সহজে বিচারিক সেবা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তাদের জন্য সহজলভ্য ও তুলনামূলক কম খরচে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে।
সভায় কোন ধরনের অভিযোগ গ্রাম আদালতে করা যায়, কীভাবে অভিযোগ দায়ের করতে হয় এবং গ্রাম আদালত গঠনের মাধ্যমে কীভাবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিরোধের সমাধান করা হয়—এসব বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।
এ সময় গ্রাম আদালত সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারী হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরা গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জানতে পেরে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা প্রয়োজন হলে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে গ্রাম আদালতের সেবা গ্রহণ করবেন এবং নিজেদের কমিউনিটির অন্যান্য সদস্যদেরও এ বিষয়ে অবহিত করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
সভায় বাংলাদেশের ‘গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার হাফিজা আক্তার গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, এখতিয়ার ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আলোচকরা বলেন, সমাজের পিছিয়ে থাকা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রাম আদালতের সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ দ্রুত ও সহজভাবে নিষ্পত্তির পাশাপাশি ন্যায়বিচারে মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।