মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪১ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :

নিকলীতে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় বাল্যবিয়েতে ঝরে পড়ল ৫১ ছাত্রী ?

দিলীপ কুমার সাহা
  • আপডেট সময় শনিবার, ২ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৬৬৩ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় জেএসি ও জেডিসি পরীক্ষার জন্য দুই হাজার ১৭৫ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে।

আজ (২ নভেম্বর) শুরু হওয়া পরীক্ষায় ৬৪ জ নঅনুপস্থিত রয়েছে। এদের মধ্যে ৫১ জন মেয়ে ও ১৩ জন ছেলে। মেয়েদের মধ্যে ৫১ জনেরই বাল্য বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারা পরীক্ষা দিচ্ছে না বলে জানা গেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সূত্রে। ১৩ জন ছেলে পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কাজে থাকায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না।

উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সহকারি শিক্ষক ও মাদ্রাসার সুপার সঙ্গে কথা বলে ওই তথ্য জানা গেছে।
অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে এসব বাল্যবিবাহ হচ্ছে। জারুইতলা ইউনিয়ন রসুলপুর হানিফ ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, আমার বিদ্যালয় থেকে দুইজন জেএসি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত। এর দুইজনই বাল্যবিবাহের কারণে পরীক্ষা দিচ্ছে না। দামপাড়া কারার মাহতাব উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার বিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীর বাল্য বিবাহ হওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারেনি। ছাতিচর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: বদরুল আমিন চৌধুরী বলেন, আমার বিদ্যালয়ের পাঁচ ছাত্রী কয়েক মাস আগে বাল্যবিবাহ হওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেনি। এবি নুরজাহান হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের বাল্যবিবাহের কারণে ওই বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী পরীক্ষা দেয়। নিকলী শহীদ স্বরণিকা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, বাল্যবিবাহের কারণে ওই বিদ্যালয়ের ছয়জন ছাত্রী পরীক্ষা দেয় না এবং প্রবেশপত্র নেওয়ার জন্য আসেনি।

সিংপুর আফিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ আলীম বলেন এক মাস আগে ওই বিদ্যালয়ের তিন ছাত্রী বাল্য বিবাহ কারণে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ জহিরুল হক বলেন, বিদ্যালয়ের তিন ছাত্রীর বাল্য বিবাহের কারণে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। করগাঁও ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ রব বলেন, আমার বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী কয়েক মাস আগে বাল্যবিবাহ হওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেনি ও রোদারপুড্ডা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বাল্য বিবাহের কারণে আজকের পরীক্ষায় অনুপস্থিত।

মোহরকোনা আশরাফিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো: মাহবুব রহমান জানাও, জেডিসি পরীক্ষায় ১৪ মেয়ে অনুপস্থিত। তিনি বিভিন্ন মাদ্রাসার সুপারের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন, মেয়ে গুলো বাল্যবিয়ের কারণে পরীক্ষায় অংশ নিছে না।

নিকলী জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব নিকলী সরকারী জিসি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কারার আঃ রশিদ বলেন, বাল্যবিবাহ মেয়েদের ঝরে পড়ার মুল কারণএবং অভিভাবকদের অশিক্ষা পরিবারে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ছেলেরা রোজগারে নেমে পড়ায় ঝরে পড়ছে।

নিকলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: নুরুজ্জামান হাবিব বলেন, অশিক্ষা ও দারিদ্র্যের কারণে অকালেই শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে। বিষয়টি আমাকে খুব বিব্রত করেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আস আদ দীনমাহমুদ বলেন, ওই ছাত্রীরা শুধু লেখাপড়া থেকে ঝরে পড়েনি। কেউ কেউ অল্প বয়সে মা হয়েও অকালে পৃথীবী থেকেও ঝরে পড়বে।

নিকলী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফসিয়া সিরাত মুঠোফোনে জানান, যে বাল্যবিয়ে গুলো হয়েছে, সেগুলো গোপনে হয়েছে। কেউ প্রসাশনকে জানালে অবশ্যই ঘটনা স্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এ ধরনের বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। পূর্বেও আমরা প্রসাশনের উদ্যোগে এ রকম অনেক বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছি। পরীক্ষার পর শিক্ষক, অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে বাল্য বিাহের বিরুদ্ধে ও এর কুফল সম্পর্কে একটি সমাবেশ করবো।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com