মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রতিনিয়তই চলছে বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া থেকে বালু উত্তোলন যা এলাকার প্রভাবশালী মহলের ইশারায় তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সরকার রাজস্ব হতে বঞ্চিহ হবার পাশাপাশি গ্রামীন সড়ক ও ছড়ার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসন জেনেও নেই তেমন কোন পদক্ষেপ।
সরেজমিন দেখা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার সুনছড়া, কামারছড়া, লাউয়াছড়া, জপলাছড়া, লঙ্গুছড়া, ধামালিছড়া, দেওছড়া, লাঘাটা ছড়া হতে প্রতিনিয়ত অবৈধ আর অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ইশারায় ছড়া হতে বালু উত্তোলন করে ট্রাকযোগে বালু পরিবহন ও বিক্রি করছে। প্রশাসনের কয়েকটি অভিযানের পরও থামানো যায়নি বালু উত্তোলন। মানা হচ্ছে না কোন আইন। ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে ছড়ার পাড় ও গ্রামীন রাস্তা। ছড়া থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ছড়ার দু’পাশ ক্রমান্বয়ে প্রশস্ত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পার্শ্ববর্তী ও চা বাগানের রাস্তাঘাট। এছাড়া কামারছড়ায় চায়ের টিলাভূমি, ছড়ার বাঁধ কেটে প্রকাশ্য দিবালোকে ট্রাক ও ট্রাক্টরযোগে সিলিকা বালু লুটপাটের হিড়িক শুরু হয়েছে। ছোট্র ছড়া সমুহেও ব্যবহৃত হচ্ছে বোম মেশিন। ফলে পরিবেশ-প্রতিবেশ ছাড়াও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। এছাড়াও ধলাই নদীর ইসলামপুর নামক এলাকায় বালু তুলে একটি ব্রিকফিন্ড ভরাট করছেন একটি মহল।
কমলগঞ্জের সদর ইউনিয়নের আব্দুল মছব্বিরসহ স্থানীয়রা বলেন, ‘লঙ্গুছড়া থেকে বালু উত্তোলনের ফলে ছড়ার বাঁধ ও কবরস্তানটিও ভেঙ্গে পড়ছে। বালু উত্তোলনের বিষয়টি এমন পর্যায়ে গিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ফলে ছড়ার বাঁধ ধ্বসে পড়ছে। অথচ এসব পাহাড়ি ছড়া থেকে বালু উত্তোলনে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।’
মৌলভীবাজার পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম সাধারণ সম্পাদক নূরুল মোহাইমীন মিল্টন বলেন, ‘পাহাড়ি ও চা বাগানের ছড়ার গাঁ ঘেষে টিলা ও ছড়ার বাঁধ কেটে বালু উত্তোলন জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতি। অবৈধ ও পরিকল্পনাহীন যত্রতত্র বালু উত্তোলন পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মৌলভীবাজারে পাহাড়ি ছড়া থেকে বালু উত্তোলনে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা হলেও এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।’
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরই আমাদের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে বালুভর্তি ট্রাক আটক করে জরিমানাও আদায় করা হয়েছে।’