মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত সমিতির (পবিস) জোনাল কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকা থেকে গত ১২ মাসে প্রায় ৭৩টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। চুরির কারনে গ্রাহকরা নতুন ট্রান্সফরমার কিনতে গিয়ে ২৩ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। পবিসের লোকসান হয়েছে ২৩ লাখ টাকা। গ্রাহকদের এত ক্ষতি হলেও ট্রান্সফরমার চোর চক্রকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে না পারায় চুরি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পবিস কমলগঞ্জ জোনাল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ জোনালের অধীনে কমলগঞ্জ,কুলাউড়া উপজেলার ২৪শত কি. মি. বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের আওতায় রয়েছে প্রায় ৩৫০টি গ্রাম। গ্রাহক সংখ্যা ৯৫ হাজার উপরে। বিভিন্ন গ্রামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু রাখতে স্থাপিত পবিস সমিতির খুঁটিতে রয়েছে ৫, ১০, ১৫ ও ২৫ কেভি ধারণ সম্পন্ন ট্রান্সফরমার। এই ট্রান্সফরমারগুলো এখন আর নিরাপদে নেই। তামা জাতীয় মূল্যবান কয়েলের লোভে প্রতি নিয়ত বিভিন্ন এলাকায় হানা দিচ্ছে ট্রান্সফরমার চোর চক্র। চলতি বছরের নভেম্বর মাসেই শুধু চুরি হয়েছে ৩টি ট্রান্সফরমার ও ডিসেম্বরে চুরি হয়েছে আরো ৩ টি ট্রান্সফরমার। এভাবে প্রতিনিয়ত চোরচক্র রাতের আঁধারে গ্রাম থেকে ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।
এক হিসেবে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের নভেম্বর হতে ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলার আদমপুর, কান্দিগাৗ, চিৎলীয়া, যোদ্ধাপুর, গোপালনগর, তিলকপুর, নয়াপত্তন, ধর্মপুর,জালালপুর, রাজকান্দি, নছরতপুর, ছয়ছিড়ি, যুগিবিল, বাসুদেবপুর, সিদ্বেশরপুর, পৃথিমপাশা, পুটটিবি, কাজীগাঁ হাসানপুর, পাল্লাকান্দি,নর্তন, কর্মদা, তিলীশিজুড়া, হাজীপুরসহ প্রায় ৩৫টি গ্রাম থেকে ৫ কেভি ১১টি, ১০ কেভি ৩৫টি, ১৫ কেভি ২১টি ও ২৫ কেভি ৬টি মোট ৭৩টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। ৩৫টি গ্রামের চুরি হওয়া ৭০টি ট্রান্সফরমার এর মুল্য প্রায় ৪৩ লাখ টাকা। চুরি হওয়ার স্থানে নতুন করে ট্রান্সফরমার স্থাপনে গ্রাহকদের কিনে পরিশোধ করতে হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ টাকা। আর এই টাকা যোগান দিতে গ্রাহকরা পোহাতে হয়েছে ভোগান্তি।
কারণ ৫ কেভি ট্রান্সফরমা মুল্য ৩৮ হাজার ১৮টাকা, ১০ কেভির মূল্য ৫৯ হাজার ৭৬০ টাকা, ১৫ কেভির মুল্য ৭২ হাজার ২২৪ টাাক এবং ২৫ কেভি ট্রান্সফরমারে মুল্য ৯৯ হাজার ৫৩১ টাকা নির্ধারণ রয়েছে। গ্রাহকরা চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমার সমিতির নিয়ম অনুযায়ী অর্ধেক মুল্য পরিশোধ করতে হয়। আর কারনেই ওই গ্রামগুলোর গ্রাহকরা চাঁদা তুলে নতুন ট্রান্সফরমা কিনতে হয়েছে। ট্রান্সফরমারের মুল্য পরিশোধ করতে গিয়ে কোন কোন গ্রামের গ্রাহকরা গরু, ছাগল বিক্রি করে বা সুদে ও অন্য কিছু বিক্রি করে টাকা যোগার করেছেন।
পল্লী বিদ্যুত সমিতির পক্ষ হতে চুরি রোধে গ্রাহকদের সচেতনতামুলক লিফলেট ও মাইকিং করার পাশাপাশি খুটিতে লোহার শিকল, নাট ওয়েল্ডিং দিয়ে ট্রান্সফরমার মোড়ানোর জন্য উদ্ধুদ্ধ করলেও কোন কাজ হচ্ছে না। চোরচক্র রড কেটে ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে নিয়মিত ট্রান্সফরমার চুরিরর ঘটনা বাড়ছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল কার্যালয় থেকে ট্রান্সফরমার চুরি জন্য থানায় মামলা দিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করে। তাদের অভিযোগ পুলিশ ট্রান্সফরমার চোরদেরকে আটক করতে না পারায় চুরি বাড়ছে।
কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের জুনিয়র ইঞ্চিনিয়ার রফিকুল ইসলাম বলেন, ইদানিং কালে ট্রান্সফরমার চুরি বেড়ে গেছে। এতে করে সমিতি ও গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চোররা যাতে চুরি করতে না পারে সেজন্য সমিতির পক্ষে থেকে সচেতনতামূলক লিফলেট বিলি, লোহার শিকল, নাট ওয়েল্ডিং করে ট্রান্সফরমার রক্ষার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, বিগত সময় ট্রান্সফরমার চুরির সাথে জড়িতদের আটক করা হয়েছে। পরে তাদেরকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে চুরির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।