মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ৯৫ ভাগ ধান কাটা শেষ হলেও এক মাসেও সরকারিভাবে এখনও শুরু হয়নি ধান ক্রয়। ধান ক্রয়ের সরকারে লক্ষ্য মাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগ বলেছে কৃষকরা এখনো ধান শুকাতে পারেননি। অপরদিকে কৃষকদের তালিকা নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ। কৃষকদের তালিকায় জনপ্রতিনিধিসহ অনেক অকৃষকদের নাম রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, কমলগঞ্জে এ বছর চলতি মৌসুমে আমন ধানের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৩শত হেক্টর। তার মধ্যে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারী ভাবে ক্রয় করা হবে ১৯৪০ মেট্রিক টন। ১টি পৌরসভার ও ৯টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৪শত জন বড়, মাঝারি ও ক্ষুদ্র কৃষকদের নিকট হতে ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয় কৃষি বিভাগ।
উপজেলা খাদ্য সংগ্রহ মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমন ধান সংগ্রহের জন্য লটারীর মাধ্যমে কৃষকদের তালিকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে আমন ধান গত ২০ নভেম্বর থেকে সরাসরি ক্রয়ের নির্দেশনা থাকলেও কমলগঞ্জ উপজেলায় এক মাসেও ১টন ধান ক্রয় করতে পারেনি উপজেলা খাদ্য বিভাগ। অথচ কৃষি বিভাগের তথ্যমতে উপজেলার ৯৮ ভাগ কৃষক আমন ধান কেটে ঘরে তুলেছেন। ফলনও এবার বাম্পার হয়েছে। তাই অনেক কৃষক বাজারে তাদের ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন।
কৃষকরা কেন ধান বিক্রি করছেন না এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা কৃষি সম্প্রসরাণ কর্মকর্তা বিশ্বজিত রায় বলেন, ‘শীত থাকার কারনে কৃষকরা ধান শুকাতে পাচ্ছেন না। ধান শুকনো না হলে খাদ্য বিভাগ ধান ক্রয় করতে পারে না। তবে আশা করছি দ্রুত ক্রয় শুরু হবে।’
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তকবির হোসেন বলেন,‘গত কয়েকদিন ধরে আবহাওয়া খারাপ থাকায় কৃষকরা ধান শুকাতে পারেনি। বর্তমানে আবহাওয়া ভালো হয়েছে। তাই কৃষকদেও বলা হয়েছে ধান শুকিয়ে নিয়ে আসার জন্য।’