বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
এমপি গাজী নজরুলের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে কমিশন: ইসি সচিব স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী না করলে গণতন্ত্র টেকসই হয় না: মির্জা ফখরুল সৌদির বিরুদ্ধে হুতিদের নৌ-অবরোধের তীব্র নিন্দায় বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জে সড়কের পাশে পড়েছিল মুক্তিযোদ্ধার ছেলের লাশ হোসেনপুরে বিলুপ্তির পথে মাকাল ফল, নতুন প্রজন্মের কাছে অচেনা কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে যুবকের মরদেহ উদ্ধার হোসেনপুরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত নিকলীতে ইয়াবা সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড নিকলীতে নিখোঁজের একদিন পর অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার কিশোরগঞ্জে খাল থেকে মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

করোনা: বাংলাদেশে সংক্রমণের সংখ্যা চূড়ায় পৌঁছাবে কবে

ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০
  • ৪৮৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। এর পর থেকে আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ৩৭তম দিন চলছে। বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা প্রথম ১০০ জনে পৌঁছাতে সময় লাগে ২৮ দিন। কিন্তু গত কয়েক দিনে এই চিত্রে পরিবর্তন আসে।

গত রোববার ১৩৯ জনের দেহে আর সোমবার (১৩ এপ্রিল) ১৮২ জনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়ার তথ্য দিয়েছে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট-আইইডিসিআর। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা পুরো চিত্র নয়। বিবিসি বাংলা এ বিষয় নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিবিসির প্রতিবেদনে ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ডা. রিদওয়ানুর রহমান বলেন, নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা যত বাড়ানো হবে আক্রান্তের সংখ্যাও তত বেশি পরিবর্তন হবে।

তিনি মনে করেন, যে পরীক্ষা হচ্ছে তাতে বোঝা যাবে না যে দেশে কত রোগী আছে বরং এটা দিয়ে বোঝা যাবে যে, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চলমান রয়েছে। দেশে কত রোগী আছে তার হিসাব বের করতে হলে ১০-২০ হাজার পরীক্ষা করতে হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমাদের পরীক্ষার সংখ্যা খুবই সীমিত। আমরা যদি একদিনে এক হাজার নমুনা পরীক্ষা না করে ১০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করতে পারতাম তাহলে আক্রান্তের সংখ্যা পুরো পাল্টে যেত। বিশাল আকার হতো।

চীনের পর যেসব দেশে ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে সেখানে প্রথম সংক্রমণের পর ৩৮ থেকে ৭৬ দিনের মাথায় একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ শনাক্ত হতে দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ৭৬ দিনের মাথায় একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত পাওয়া যায় ৩২ হাজার ১০৫ জন। এছাড়া যুক্তরাজ্য ৬৭তম দিনে, ফ্রান্স ৬৬, জার্মানি ও স্পেনে ৬১, ইতালি ৫৩, ইরানে ৪২, এবং নেদারল্যান্ডসে ৩৮ তম দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ধরা পরে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের আক্রান্তের সব ধরণের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করলে ধারণা করা যেতে পারে যে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ কিংবা মে মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ হতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ডা. বে-নজির আহমেদও এই প্রতিবেদনে একই কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের যে ট্রেন্ড দেখছি তা এক্সপোনেনশিয়াল পর্যায়ে রয়েছে বা এটা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। পিক বা চূড়ায় পৌঁছানো বলতে বোঝায় যে, ক্রমাগত সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ার যে পর্যায় সেটি চলতে থাকবে এবং এক পর্যায়ে গিয়ে এই হার সর্বোচ্চ হবে। আর তারপরই সংক্রমণের হার নেমে আসবে।

ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভাবছি, এটা হয়তো মে মাসের প্রথম দিকে বা মাঝামাঝি নাগাদ আমরা পিকটা আশা করতে পারি। তবে সর্বোচ্চ আক্রান্ত হওয়া বা সংক্রমণ কবে নাগাদ চূড়ায় উঠতে পারে সে বিষয়ে কোন কিছু বলতে চাইছে না আইইডিসিআর।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ভাইরাসটির বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন হওয়ার কারণে নির্দিষ্ট করে কোন কিছু বলা সম্ভব নয়। আমাদের এখন রাইজিং ট্রেন্ড অর্থাৎ সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। আমাদের ঝুঁকি দিন দিন আরো বাড়ছে। পিক এ কবে পৌঁছাবে, সেটা এখন আমি বলতে পারবো না।

তার মতে, এখন কোন ধরণের ধারণার কথা বললেও আসলে শেষমেষ তা কাজে নাও আসতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অন্য দেশের মতোই করোনাভাইরাসের মতো মহামারি সামাল দিতে যেহেতু হাসপাতাল ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়, তাই সংক্রমণ বাড়ার সাথে সাথে খেয়াল রাখতে হবে যাতে, মারাত্মকভাবে সংক্রমণের শিকার মানুষের সংখ্যা সীমিত রাখা যায়।

এ বিষয়ে ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ৮০ ভাগ মানুষের সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকলেও ২০ ভাগ মানুষের হাসপাতালে সেবা নেয়ার দরকার হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ এক সময় চূড়ান্তে পৌঁছালেও কঠোরভাবে লকডাউন কার্যকরের মতো পদক্ষেপ নিয়ে এই হার নিয়ন্ত্রণে রাখা যেতে পারে।

দেশে সোমবার (১৩ এপ্রিল) গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১৮২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। সব মিলিয়ে দেশে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৮০৩ জনে। ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান ৫ জন। সব মিলিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৩৯ জনের। নতুন করে তিনজন সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৪২ জন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com