বয়স তাঁর ৯৭ বছর। লাঠিতে ভর দিয়ে কেবল বাড়ি থেকে ছেলের কাঁচামালের দোকান পর্যন্তই আনাগোনা তার। বয়সের ভারে একেবারেই নুয়ে পড়েছেন তিনি। বলছিলাম কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড় হাটি গ্রামের গিরীন্দ্র চন্দ্র সাহার কথা। সরকারি নির্দেশনায় বয়স্ক ভাতা পেতে সর্বনিম্ন ৬৫ বছর বয়সসীমা ধরা হলেও অজ্ঞাত কারণে ৯৭ বয়সেও বয়স্ক ভাতা পাননি ওই বৃদ্ধ।
বৃদ্ধর প্রশ্ন “আর কত বয়স হলে, বয়স্ক ভাতার কার্ড পাবো?” খেয়ে পরে বেঁচে থাকার জন্য শুধু একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড চাই। অনেক আগে নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সঞ্জীব কুমার সাহার কাছে অনেকবার গিয়েছেন কিন্তু মেলেনি একটি বয়স্কা ভাতার কার্ড। বারবার নানা আশ্বাসের বাণী শুনিয়েছেন দেই দিচ্ছি হচ্ছে। এর পর আর কোনো চেয়ারম্যানের কাছে যায়নি।
বৃদ্ধ বয়সে তার আক্ষেপ এখনও তিনি বয়স্ক ভাতা পাননি। অনেক বছর পরে বর্তমান নিকলী সদও ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য, তাজুল ইসলাম শিপনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোন লাভ হয়নি। নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা তাকে কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর আর কোন খোঁজ নেননি নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। এসময় তিনি তার নাগরিক অধিকার পেতে সরকারের কাছে দাবিও জানান।
এদিকে, ভাতা প্রাপ্তির সব যোগ্যতা থাকার পরও কেন বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন না এমন প্রশ্ন গিরীন্দ্র সাহাসহ তার স্বজনদের। এ প্রসঙ্গে, গিরীন্দ্র সাহা বলেন, “আর কত বয়স হলে আমি বয়স্ক ভাতা পাব?”
স্থানীয় ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম শিপন বলেন, গিরীন্দ্র সাহাকে বলেছি যে এ বছর বয়স্ক ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। এ ব্যাপারে নিকলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়া আহম্মেদ তুলিপ বলেন বিষয়টি তিনি আমাকে জানাননি। অবশ্যই গিরীন্দ্র সাহার নাম বয়স্ক ভাতার আওতায় আনা হবে। ৯৭ বছর বয়সে বয়স্ক ভাতার কার্ড পাবেনা না এটা কোনো কথা হলো !
এ প্রসঙ্গে নিকলী উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আসিফ ইনতিয়াজ মনির বলেন, এখনও এরকম বয়স্ক লোক বয়স্ক ভাতার আওতায় পড়েনি আমার জানা ছিল না। অতিদ্রুত গিরীন্দ্র সাহার বয়স্ক ভাতার কার্ড দেয়া হবে। আমি ব্যবস্থা করে দিবো।